• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
logo
শিরোনাম
বিদেশ যাচ্ছেন সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ফুটপাতের জন্য ১৫৪ গাছ কাটার উদ্যোগ, ক্ষুব্ধ নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নবনিযুক্ত চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয় ছিল ইসলামী আন্দোলন: চরমোনাই পীর যাত্রাবাড়ীতে ৭০ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার প্রশ্নফাঁসবিরোধী আন্দোলনেই উত্থান, সেই প্রশ্নফাঁসের জেরেই ধর্মেন্দ্রর বিদায় ভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রী হলেন প্রহ্লাদ জোশী কে এই অভিজিৎ, কীভাবে ‘ককরোচ’ আন্দোলনের মুখ হয়ে উঠলেন সাবেক এমপি বদির বোন জামাই ইয়াবাসহ আটক বধির ক্রীড়াবিদদের জন্য আরও সুযোগ-সুবিধা চাইলেন ডিএসসিসি প্রশাসক

৫ বছরের আইনি লড়াই শেষে জমির দখল বুঝে পেলেন ক্রেতারা

  নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশ:  ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১:১৬ এ.এম.
শেয়ার করুন 0
ছবি: ভিওডি বাংলা
ছবি: ভিওডি বাংলা

জমি বিক্রির জন্য বায়না রেজিষ্ট্রি দলিল করেও কবলা দলিল করে দিতে অস্বীকার করে বিক্রেতারা। ফলে আদালতের স্মরণাপন্ন হন ক্রেতারা। এর প্রেক্ষিতে প্রায় ৪ বছর মামলা চালিয়ে রায় পান এবং আদালত কবলা রেজিস্ট্রি দলিল করে দেয় জমি। এতে জমি কেনার দীর্ঘ ৫ বছর পর আদালতের মাধ্যমে মালিকানা পেলেন ৩ ক্রেতা। এই ঘটনা নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বসুনিয়া পাড়া মোড় এলাকায় সৈয়দপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের পাশে। 

শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে সেই জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়। 

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২০২১ সালে ওই জায়গায় মহাসড়ক সংলগ্ন মহিউস সুন্নাহ মাদরাসার পেছনে ২৯ শতক জমি কিনতে যৌথভাবে বায়না রেজিস্ট্রি দলিল করেন ৩ ক্রেতা। তারা হলেন,  সৈয়দপুর শহরের বাঁশবাড়ী মদীনা লেন এলাকার এ্যাডভোকেট রাজিব মাহমুদ ও নতুন বাবুপাড়া পুলিশ লাইন্স এলাকার আব্দুর রাজ্জাক এবং নীলফামারী শহরের উকিলপাড়া এলাকার এ্যাডভোকেট আল মাসুদ চৌধুরী। আর জমি বিক্রেতারা হলেন, সৈয়দপুর শহরের মিস্ত্রিপাড়া এলাকার মৃত ফজলার রহমানের ছেলে মামুনুর রহমান, মতিনুর রহমান ও মাহবুবর রহমান। 

বিক্রেতারা তাদের পৈত্রিক সম্পত্তির ৭৭.৩৭ শতকের মধ্যে ৬৬ শতকের মধ্যে ২৯ শতক জমি বায়না রেজিস্ট্রি দলিল করে দেন। কিন্তু পরে সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করে কবলা দলিল করে দেওয়ার জন্য বার বার বলা সত্বেও গড়িমসি করে এবং শেষ পর্যন্ত বিক্রি করতে অস্বীকৃতি জানান। এতে বাধ্য হয়ে গত ২০২২ সালে ক্রেতারা আদালতে মামলা দায়ের করেন। মোকদ্দমা নম্বর অন্য ডিক্রি ০২/২৫ (মূল মোকদ্দমা নম্বর ৫২/২০২২ হতে উদ্বুদ্ধ)। এর প্রেক্ষিতে দীর্ঘ ৪ বছর মামলা চলার পর ক্রেতাদের পক্ষে  গত ২৭-০৮-২০২৫ ইং তারিখে রায় হয়। এরপর গত ১৮-৫-২০২৬ ইং তারিখে ডিগ্রি জারী হয়। 

ওই ডিক্রির আদেশ মোতাবেক সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান জমি মাফজোক করে চৌহদ্দিতে লালশালু পতাকা লাগিয়ে এবং ঢোল পিটিয়ে ঘোষণা দেওয়ার মধ্য দিয়ে ক্রেতাদের জমির দখল বুঝিয়ে দেন। জমির তফসিল অনুযায়ী খতিয়ান নম্বর সি এস- ১০৮৩, এস এ -৮৮৪ ও বি এস- ২৬২৩ এবং দাগ নম্বর যথাক্রমে ৩৩৭১, ৩২৮০ ও ৪৫৯৬। জমির পরিমাণ ৭৭.৩৭ শতকের মধ্যে ৬৬ শতকের মধ্যে ২৯ শতক। 

একইসঙ্গে আদালতের আদেশনামা ও তফসিল লেখা বোর্ড বাঁশ দিয়ে টানানো হয়। তাকে সহযোগিতা করেন জেলা জজকোর্ট ও ভূমি অফিসের কর্মকর্তাগণসহ পুলিশ। এসময় এলাকার গণ্যমান্য লোকজন ও সংবাদ কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও কৌতূহলী সাধারণ মানুষও ভীড় জমায় ঘটনাস্থলে। 

এব্যাপারে ক্রেতা নীলফামারী জেলা জজকোর্টের পিপি এ্যাডভোকেট আবু মাসুদ চৌধুরী বলেন, বিক্রেতারা ৩ ভাই আমাদের সাথে চরম প্রতারণা করেছেন। লোভের বশে তারা রেজিস্ট্রিকৃত বায়নামানা  অস্বীকার করে হয়রানির মুখে ফেলেছে। কিন্তু বৈধ দলিল অস্বীকার করলেই তো আর তা অবৈধ হয়ে যায়না। মূলত: তারা তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতার আত্মীয় হওয়ার দাপটে এই ভোগান্তিতে ফেলেছিল। এভাবে অনেককেই তারা হয়রানি ও ভোগান্তি পোহাতে বাধ্য করেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা আইনের মাধ্যমেই সত্য ও ন্যায়ের বিচার পেয়েছি। 

অপর ক্রেতা নীলফামারী জজকোর্টের আইনজীবী এ্যাডভোকেট রাজিব মাহমুদ বলেন, আমরা যদি বায়না রেজিস্ট্রি দলিল না করতাম তাহলে হয়তো প্রতারক বিক্রেতা পার পেয়ে যেতো। তারা আরও অনেকের সাথে এমন অনৈতিক কাজ করেছে। আইনজীবী হয়েও আমাদের দীর্ঘদিন আইনী লড়াই করে জমির মালিকানা পেতে হয়েছে। তাই জমি কেনার আগে নিয়ম অনুযায়ী বায়না রেজিস্ট্রি দলিল করা উচিত। নয়তো এমন ভোগান্তিতে পড়তে হবে। 

ভিওডি বাংলা/মো. মাইনুল হক/জা   


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
ফেরি থেকে পদ্মায় ঝাঁপ দেওয়া নারী জীবিত উদ্ধার
ছবি: সংগৃহীত
সাবেক এমপি বদির বোন জামাই ইয়াবাসহ আটক
ছবি: ভিওডি বাংলা
মেধাবী শিক্ষার্থী নীরবের পাশে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম