মালিতে বিদ্রোহীদের হামলায় অন্তত ৫০ সেনা নিহত

মালির উত্তরাঞ্চলের আনেফিস শহর থেকে সেনা প্রত্যাহারের সময় বিদ্রোহী তুয়ারেগ গোষ্ঠীর অতর্কিত হামলায় অন্তত ৫০ সেনা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ২৪ সেনাকে আটক করা হয়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার (১৮ জুলাই) আনেফিস ত্যাগ করা মালির সেনাবাহিনীর একটি বহরে এ হামলা চালানো হয়। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে শহরটির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সরকারি বাহিনী ও তুয়ারেগ বিদ্রোহীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ চলছিল।
চলতি মাসের শুরুতে তুয়ারেগ বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব আজাওয়াদ (এফএলএ) সাময়িকভাবে আনেফিসের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এ সময় তারা মালির সেনাবাহিনী ও রাশিয়ান আফ্রিকা কর্পসের ব্যবহৃত একটি সামরিক ঘাঁটি অবরোধ করে।
মালির জান্তা সরকারের ঘনিষ্ঠ এক স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, হামলায় অন্তত ৫০ সেনা নিহত হয়েছেন এবং আরও অন্তত ২৪ জনকে বন্দি করা হয়েছে। তার দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি মালির সেনাবাহিনীর ওপর সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি। হামলার দায় স্বীকার করেছে এফএলএ।
সেনাবাহিনীর এক সদস্য জানান, আটক হওয়ার পর কয়েকজন সেনাকে হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কীভাবে সেনারা এত বড় ঝুঁকির মধ্যে পড়েছিলেন, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, সেনাবাহিনীর মিত্র রাশিয়ান আফ্রিকা কর্পসের সদস্যরা হামলার আগেই গাও শহরে পৌঁছে যাওয়ায় তাদের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
গাও অঞ্চলের এক কমিউনিটি নেতার ভাষ্য, নিহতরা সবাই মালির সেনাবাহিনী ও সরকারপন্থী মিলিশিয়ার সদস্য। হামলায় রুশ বাহিনীর কোনো সদস্য নিহত হননি।
শনিবার প্রকাশিত এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে মালির সেনাবাহিনী স্বীকার করেছে, তাদের একটি বহর সশস্ত্র গোষ্ঠীর অতর্কিত হামলার শিকার হয়েছে। তবে হতাহতের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।
২০২০ ও ২০২১ সালে পরপর দুটি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে মালির বর্তমান জান্তা সরকার। নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও দেশটি এখনো জিহাদি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সহিংসতা মোকাবিলায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
ভিওডি বাংলা/এমএস








মন্তব্য