প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ প্রকাশ

প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের একটি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের পর বেইজিংয়ের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার (৬ জুলাই) একটি ডামি ওয়ারহেডসহ (বোমার নকল রূপ) এই পরীক্ষা চালায় চীন।
দুই বছর আগে ফরাসি পলিনেশিয়ার কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় চীনের একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর সোমবারের এই পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হলো। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরীক্ষাটির মাধ্যমে চীন সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানার ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে বলেন, এমন এক সময়ে যখন যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধে কঠোর পরিশ্রম করছে, চীন তখন তার বিপরীত কাজ করছে। বেইজিংয়ের এই দ্রুত ও অস্বচ্ছ পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণ পুরো বিশ্বের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ।
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই চীনকে আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে। বিশেষ করে গত ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘নিউ স্টার্ট’ নামের প্রধান পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র চাচ্ছিল নতুন চুক্তিতে চীনকেও অন্তর্ভুক্ত করতে, কিন্তু বেইজিং সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এবারের ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি পারমাণবিক সাবমেরিন থেকে ছোঁড়া হয়েছিল এবং এটি দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের সলোমন দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি গিয়ে পড়েছে।
‘এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউট’-এর সিনিয়র ফেলো লায়েল মরিস বলেন, এই পরীক্ষাটি চীনের একটি বড় অগ্রগতি। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, চীনের নৌবাহিনী এখন নিজেদের জলসীমার কাছাকাছি ঘাঁটি থেকেই সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে নিখুঁতভাবে পারমাণবিক হামলা চালাতে সক্ষম। চীনের এই শক্তি প্রদর্শনের দিনে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে অস্ট্রেলিয়া ও ফিজি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং বলেছেন, চীনের এই পরীক্ষা পুরো অঞ্চলটিকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে।
জাপানও চীনের এই ক্রমবর্ধমান সামরিক কার্যকলাপ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
তবে চীনের এই পদক্ষেপকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে তাদের মিত্র দেশ রাশিয়া। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই পরীক্ষা চীনের সার্বভৌম অধিকার এবং বেইজিং বিশ্বের কারও জন্য হুমকি নয়। চীনের নৌবাহিনীর মুখপাত্র ওয়াং শুয়েমেং জানিয়েছেন, এটি তাদের বার্ষিক সামরিক প্রশিক্ষণের একটি নিয়মিত অংশ এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে নিয়ম মেনেই আগে থেকে জানানো হয়েছিল।
ভিওডি বাংলা/বিন্দু








মন্তব্য