• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
logo

যুবদল কর্মী নিহতের ঘটনায় আদালতে চার আসামির দায় স্বীকার

  নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ:  ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৪ পি.এম.
শেয়ার করুন 1
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুর ১৩ নাম্বার রোডের বয়রা পট্টি এলাকার যুবদল কর্মী ইউসুফ আলী পারভেজকে গুলি করে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত ৪ জন আসামি পৃথক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সাত আসামির মধ্যে অন্য তিন আসামি জবানবন্দি দেয়নি। আদালত সাতজনকেই কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিবি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) জানিয়েছে, ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে যুবদলের আরেক নেতাকে হত্যার জন্য পেশাদার খুনি ভাড়া করা হয়েছিল। তবে তাদের পরিকল্পিত হামলা লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে নিহত হন ইউসুফ।
সোমবার ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে ওই সাত আসামিকে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পল্লবী জোনাল টিমের উপপরিদর্শক (এসআই) রায়হান হোসাইন।
পুলিশের অপরাধ ও তথ্য বিভাগের (প্রসিকিউশন) এসআই ওয়াজেদ খান বলেন, জিহাদ মোল্লা, মাসুম বিল্লাহ, নাহিদ হাসান ও আবির হাওলাদার ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক বানবন্দি দেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।
এসআই ওয়াজেদ আরও জানান, অপর আসামি জিয়ারুল মোল্লাকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার জন্য আদালতে নেওয়া হলেও তিনি জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে তাঁকেও কারাগারে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আলী হোসেন ও শাফিন আহমেদকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) হত্যাকাণ্ডের দিন ঘটনাস্থল থেকে জনতার হাতে আটক হওয়া চঞ্চল মোল্লাকে এখনো হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। পুলিশের করা অস্ত্র মামলায় তিনি তিন দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।
ডিবি সূত্র জানায়, কাফরুল থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজের সঙ্গে থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুর দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। দরপত্র ও ফুটপাতের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন কারণে সৃষ্ট এই বিরোধের জেরে বাবুকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। এ জন্য ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে মাগুরা ও ঝিনাইদহ থেকে চার পেশাদার শুটার ভাড়া করে ঢাকায় আনা হয়েছিল।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্র অনুযায়ী, গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে মিরপুর-১৩ নম্বর এলাকায় যুবদল নেতা হাফিজুল ইসলাম বাবু, ইউসুফ আলী, সাহাজাদ হােসেন সুজন, কামাল ও অন্যরা কথা বলছিলেন। এ সময় চঞ্চল মোল্লা ও তাঁর সহযোগীরা সেখানে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করলে তাঁদের পরিচয় জানতে চাওয়া হয়। একপর্যায়ে একজন অস্ত্র বের করে যুবদল কর্মী ইউসুফের বুকে গুলি করেন। একটি গুলি ইউসুফের বুকের ডান পাশে বিদ্ধ হয়ে পিঠ দিয়ে বেরিয়ে যায়।

এসময় হামলাকারীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও যুবদল কর্মী মো. মনির হোসেন আহত হন। পরে ইউসুফকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ১২টার দিকে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর পালানোর সময় স্থানীয় লোকজন ধাওয়া দিয়ে চঞ্চল মোল্লাকে অস্ত্র ও গুলিসহ আটক করে পিটুনি দেন। পরে পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয়। তাঁর কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও চারটি গুলি জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে কাফরুল থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা করে। পরে নিহত ইউসুফের বড় ভাই মাসুদ রানা গত শনিবার কাফরুল থানায় হত্যা মামলা করেন।
ডিবির তথ্য অনুসারে, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন চঞ্চল মোল্লা (৩৪), জিহাদ মোল্লা (৩০), জিয়ারুল মোল্লা (৩৯), মাসুম বিল্লাহ (২৮), নাহিদ হাসান (২১), আবির হাওলাদার (২৫), আলী হোসেন (৪৫) ও শাফিন আহমেদ (২২)। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ভিওডি বাংলা/আর 


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
যাত্রাবাড়ীতে ৭০ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত
মোহাম্মদপুরে এসআইকে ছুরিকাঘাত, ক্ষতস্থানে ৪৩টি সেলাই
ছবি: ভিওডি বাংলা
ধামরাইয়ে ৪ ভুয়া ডিবি গ্রেপ্তার