• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থানের লড়াইয়ে মুখোমুখি ফ্রান্স-ইংল্যান্ড

ভিওডি বাংলা ডেস্ক    ১৮ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৯ এ.এম.
বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থানের লড়াইয়ে মুখোমুখি ফ্রান্স-ইংল্যান্ড। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থানের লড়াইয়ে মুখোমুখি ফ্রান্স-ইংল্যান্ড। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচকে অনেকেই গুরুত্বহীন বলে মনে করলেও ব্যক্তিগত অর্জন, দলের সম্মান এবং আর্থিক দিক থেকে এই ম্যাচের গুরুত্ব কম নয়। এবারও সেই লড়াইয়ে আজ মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। একই সঙ্গে গোল্ডেন বুট ও গোল্ডেন বলের দৌড়ে লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে।

মিয়ামি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় আজ রাত ৩টায় শুরু হবে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। বর্তমানে মেসির সমান ৮ গোল রয়েছে এমবাপ্পের। ফলে এই ম্যাচে গোল করতে পারলে পরিসংখ্যানে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে ফরাসি এই তারকার।

ফ্রান্সের দায়িত্বে এটাই শেষ ম্যাচ হতে যাচ্ছে প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশমের। ২০১২ সালে জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়া দেশমের অধীনে ১৮৪ ম্যাচে ১২০টি জয় পেয়েছে ফ্রান্স। তার নেতৃত্বে ২০১৮ বিশ্বকাপ ও উয়েফা নেশন্স লীগ জিতেছে দলটি। এছাড়া ২০১৬ ইউরো এবং ২০২৫ নেশন্স লীগে রানার্সআপ হয়েছে ফরাসিরা।

বিদায়ী ম্যাচ নিয়ে দেশম বলেন, এটি কোনো প্রীতি ম্যাচ নয়। নিজেদের, ফ্রান্সের জার্সির মর্যাদা এবং সমর্থকদের জন্য জয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে চান তিনি। এই ম্যাচে কয়েকজন রিজার্ভ খেলোয়াড়কে সুযোগ দেওয়া হলেও ব্যক্তিগত মাইলফলকের কথা বিবেচনায় শুরুর একাদশে থাকবেন কিলিয়ান এমবাপ্পে।

অন্যদিকে ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ টমাস টুখেল তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো খেলোয়াড়ই ম্যাচটি খেলতে চায় না। ফ্রান্সের খেলোয়াড়রাও না।’ সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হারের পর আরেকটি ম্যাচে নামা মানসিকভাবে কঠিন হলেও পেশাদারিত্বের জায়গা থেকে দুই দলই সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বলে মনে করেন তিনি। টুখেলও নিয়মিত কয়েকজন খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দিয়ে বেঞ্চের ফুটবলারদের সুযোগ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও ম্যাচটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। জিততে পারলে ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে এটিই হবে থ্রি লায়ন্সদের সর্বোচ্চ সাফল্য।

বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে এমন কোনো ম্যাচ ছিল না। ১৯৩৪ সালে প্রথমবার এটি চালু হয়, যেখানে অস্ট্রিয়াকে ৩-২ গোলে হারিয়ে তৃতীয় স্থান দখল করে জার্মানি। তবে ১৯৫০ বিশ্বকাপে ফাইনাল গ্রুপ পদ্ধতি থাকায় এ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি। এরপর ১৯৫৪ সাল থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপেই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ আয়োজন করা হচ্ছে।

ফিফার তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ৬ বার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলেছে জার্মানি। এর মধ্যে চারবার জয় পেয়েছে তারা। এরপর রয়েছে ফ্রান্স (৪), উরুগুয়ে (৩), পোল্যান্ড (৩) এবং সুইডেন (৩)।

ফ্রান্সের বিশ্বকাপ ইতিহাসে ১৯৫৮ সালের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি বিশেষভাবে স্মরণীয়। জ্যাঁ ফন্তেইন, রেমো কোপা, রজে পিয়াঁতোনি ও জঁ ভাসাঁদের নিয়ে গড়া দুর্দান্ত আক্রমণভাগ সেই আসরে ২৩ গোল করেছিল। ফন্তেইন একাই করেছিলেন ১৩ গোল, যা এখনো এক বিশ্বকাপে কোনো ফুটবলারের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। এর মধ্যে জার্মানির বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেই তিনি করেছিলেন চার গোল।

বর্তমানে বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচেরই বাণিজ্যিক মূল্য অনেক বেশি। আয়োজক দেশ, ফিফা এবং অংশগ্রহণকারী দেশের ফুটবল ফেডারেশনগুলোও এ ম্যাচ থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হয়। গত ডিসেম্বরে প্রকাশিত ফিফার প্রাইজমানি তালিকা অনুযায়ী, ২০২২ সালের তুলনায় এবারের পুরস্কারের অর্থ ৫০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৫০ মিলিয়ন ডলার, রানার্সআপ ৩৩ মিলিয়ন ডলার, তৃতীয় স্থান অধিকারী দল ২৯ মিলিয়ন ডলার এবং চতুর্থ হওয়া দল পাবে ২৭ মিলিয়ন ডলার।

ভিওডি বাংলা/এমএস 


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
গোল্ডেন বুট বল ও গ্লাভস
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোল করে ‘গোল্ডেন বুট’ জিতেছিলেন যারা
ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়দের গায়ে থাকা কিছু জার্সি তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের পোশাক কারখানায়। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপে নেই বাংলাদেশ দল, আছে দেশের তৈরি জার্সি
ছবি: সংগৃহীত
সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচের আগে ধাক্কা খেল বাংলাদেশ