শেষ দিনে আইসিসিবির আন্তর্জাতিক শিক্ষামেলায় উপচে পড়া ভিড়
রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আয়োজিত বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শিক্ষামেলা-২০২৬-এ দ্বিতীয় দিনেও ছিল শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ব্যাপক উপস্থিতি। বিদেশে উচ্চশিক্ষা বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য, স্কলারশিপের সুযোগ এবং বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনের পরামর্শ নিতে দিনভর বিভিন্ন স্টলে ভিড় করেন আগ্রহীরা। তিন দিনব্যাপী এই আয়োজন শনিবার (২৫ জুলাই) রাত ৮টায় শেষ হবে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মেলায় অংশ নেন। তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে ভর্তি প্রক্রিয়া, শিক্ষার ব্যয়, বৃত্তির সুযোগ, ভাষা পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে বিস্তারিত ধারণা নেন।
গত বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এই শিক্ষামেলায় ৩৫টি স্টলের মাধ্যমে ৪৫টিরও বেশি দেশের আড়াই হাজারের বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এবং মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পর্কে আগ্রহীদের প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা ভিসা প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ভাষা দক্ষতা পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং ক্যারিয়ার পরিকল্পনা সম্পর্কেও বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। মেলায় ইউরোপিয়ান, ইউকে ও মালয়েশিয়ান এডুকেশন এক্সপোর পাশাপাশি ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং সেশনও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
মেলার দ্বিতীয় দিনে আইসিসিবির গুলনকশা হলে প্রায় প্রতিটি স্টলেই ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। অনেক শিক্ষার্থী একই দিনে একাধিক দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে নিজেদের জন্য উপযুক্ত গন্তব্য বেছে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
বিশেষ করে স্কলারশিপের সুযোগ, টিউশন ফি, আবাসন ব্যয় এবং পড়াশোনা শেষে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নিয়ে সবচেয়ে বেশি জানতে আগ্রহ দেখা গেছে।
বিদেশে উচ্চশিক্ষার আর্থিক প্রস্তুতিকে সহজ করতে মেলায় বিভিন্ন ব্যাংকও অংশ নিয়েছে। তাদের প্রতিনিধিরা শিক্ষা ঋণের শর্ত, প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং অর্থায়নের বিভিন্ন সুবিধা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের তথ্য দিচ্ছেন।
এনসিসি ব্যাংকের কর্মকর্তা মেহেদি ইসলাম জানান, সহজ শর্তে এবং নামমাত্র গ্যারেন্টারের ভিত্তিতে দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত শিক্ষা ঋণের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনায় সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া। এক জায়গায় বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পারায় সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেক সহজ হয়েছে।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাসনিয়া রহমান বলেন, বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য পেলেও অনেক বিষয়ে দ্বিধা ছিল। মেলায় এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে সরাসরি তথ্য পাওয়ায় এখন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
ফেয়ার কনভেনার ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ গালিব বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা এখন বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষা অর্জনে আগের চেয়ে অনেক বেশি আগ্রহী। শিক্ষার্থীরা যেন সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই আয়োজন।
প্রতিষ্ঠানটির ডিরেক্টর অব ইভেন্টস অ্যান্ড সেলস আশিকুর রহমান তানভীর জানান, যেসব শিক্ষার্থী এখনো মেলায় আসেননি, তাদের জন্য আজই শেষ সুযোগ। বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন থেকে শুরু করে স্কলারশিপ, ভিসা এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার-সব বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ থাকবে রাত ৮টা পর্যন্ত।
ভিওডি বাংলা/জা









মন্তব্য