সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হলে রাজপথে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি নাহিদের

জনগণের রায় ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে সরকারকে সতর্ক করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, দ্রুত গণরায় বাস্তবায়ন না হলে ওলামা অ্যালায়েন্সসহ জুলাই বিপ্লবের সব অংশীজনকে নিয়ে রাজপথে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় ন্যাশনাল উলামা অ্যালায়েন্স আয়োজিত ‘জুলাইয়ের রক্তাক্ত জুব্বা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা যুদ্ধসহ দেশের সব গণতান্ত্রিক ও অধিকারভিত্তিক সংগ্রামে আলেম-ওলামা ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এটি শুধু ওলামাদের আন্দোলন নয়, বরং জাতীয় প্রতিটি সংগ্রামে তারা অবদান রেখেছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে ইসলাম ও মুসলমানদের 'জঙ্গিবাদের' তকমা দিয়ে পরিকল্পিতভাবে প্রতিকূলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তার ভাষায়, "রক্তাক্ত জুব্বা শুধু জুলাই বিপ্লবে নয়, গত কয়েক দশক ধরেই রক্তাক্ত হয়েছে। শুধু বাংলাদেশে নয়, পুরো পৃথিবীজুড়েই ইসলাম ও মুসলমানদের পরিচয় আঘাতের মুখে পড়েছে। এই রক্তাক্ত জুব্বা বিদ্রোহ ও লড়াইয়ের প্রতীক।"
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, শাপলা আন্দোলন থেকে শুরু করে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন এবং জুলাই বিপ্লবে শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্ত আলেম-ওলামা এবং মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সম্মাননা দিতে হবে।
সরকারের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, "সরকার বলছে জুলাই চেতনা বিক্রি করে রাজনীতি করা যাবে না। কিন্তু জুলাই চেতনা কেউ বিক্রি করছে না। বরং মুক্তিযুদ্ধের তথাকথিত চেতনার নামে গত পঞ্চাশ বছর আওয়ামী লীগ গুম, খুন, লুটপাট, ভোটাধিকার হরণ ও গণতন্ত্র ধ্বংসের রাজনীতি করেছে।"
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ আরও বলেন, "জুলাই বিপ্লবের সবচেয়ে বেশি সুফলভোগী বর্তমান সরকার। তারা ক্ষমতায় এসেছে জুলাইয়ের কারণে। আমরা পেয়েছি ক্ষমতাহীন দায়িত্ব, আর তারা পেয়েছে দায়িত্বহীন ক্ষমতা।"
রাষ্ট্রপতির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, "যদি গণভোটের আদেশ অবৈধ হয় এবং রাষ্ট্রপতি সংবিধানবিরোধী আদেশ দিয়ে থাকেন, তাহলে তাকে এখনো পদে রাখা হয়েছে কেন? তাকে বিচারের আওতায় আনা উচিত।"
তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ যদি সংবিধানবিরোধী হয়ে থাকে, তাহলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারও সংবিধানবিরোধী কাজ করেছেন। "সেক্ষেত্রে সরকারের উচিত তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া। কিন্তু সরকার কিছুই করছে না।"
নির্বাচনের বৈধতা প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, "নির্বাচন বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী হয়নি। ২০২৬ সালে নির্বাচনের কথা সংবিধানে ছিল না। জুলাই বিপ্লবের পর জনগণের সার্বভৌম আকাঙ্ক্ষা ও গণআদেশের ভিত্তিতেই নির্বাচন ও গণভোট হয়েছে।"
তিনি বলেন, "৫ আগস্টের পরের বাস্তবতাকে শুধু সংবিধানের ভেতর থেকে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। এটিকে জনগণের জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষার আলোকে ব্যাখ্যা করতে হবে। সেই আকাঙ্ক্ষা ছিল রাষ্ট্রের আমূল সংস্কার, নতুন বাংলাদেশ গঠন এবং সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতি প্রতিষ্ঠা।"
সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, "সংবিধান সংশোধনী কমিটির নামে যে প্রহসন চলছে, তা বন্ধ করে দ্রুত গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করতে হবে।"
শেষে সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, "দ্রুত সমাধান না হলে ওলামা অ্যালায়েন্সসহ জুলাই বিপ্লবের সব অংশগ্রহণকারী ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথের আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হব। আমরা ইতোমধ্যে সেই আন্দোলনের মধ্যেই আছি। তবে এখনও সময় আছে—সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সরকার যেন এ সংকটের সমাধান করে।"
ভিওডি বাংলা/এমআই/এফএ








মন্তব্য