সড়ক সংস্কারে অনিয়ম, ৪ কর্মকর্তাকে শোকজ

লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় প্রায় ৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকার সড়ক সংস্কার ও ড্রেন নির্মাণকাজে নিম্নমানের মালামাল ব্যবহারের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় তদারকিতে অবহেলার অভিযোগে উপসহকারী প্রকৌশলীসহ চার কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রকল্প পরিচালকের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) রাতে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, সড়ক সংস্কারকাজে দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে উপসহকারী প্রকৌশলী সোহাগ আলী ও কার্য সহকারী ফাহাদ হোসেনকে লিখিতভাবে শোকজ করেছে পৌর প্রশাসন। এছাড়া উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইসহাক ও এবিএম আশরাফ উদ্দিনকেও শোকজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, সড়ক সংস্কারকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মোস্তফা অ্যান্ড সন্সের বিরুদ্ধে প্রকল্প পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক শহিদুল ইসলামকে নিম্নমানের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিন দিনের মধ্যে এসব মালামাল অপসারণ করে কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালকের কাছে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত ‘রিজিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটরিয়্যাল ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের’ আওতায় লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় সড়ক, ড্রেন, স্ট্রিট লাইট ও ফুটপাত উন্নয়নকাজ চলছে।
চিঠিতে বলা হয়, প্রকল্পের আওতাধীন বিসি সড়কের ম্যাকাডম কাজে নিম্নমানের খোয়া এবং ড্রেন নির্মাণে নিম্নমানের পাথর ব্যবহার করা হয়েছে। এ বিষয়ে ঠিকাদারকে আগে মৌখিক ও লিখিতভাবে সতর্ক করা হলেও তা উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এ অবস্থায় সব ধরনের কাজ বন্ধ রেখে নিম্নমানের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফিরোজ আলম নামের এক স্থানীয় ঠিকাদার কাজটি নিয়েছেন। তিনি লক্ষ্মীপুরের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান অঙ্গশোভার মালিক। তাদের দাবি, শুরু থেকেই কাজে অনিয়ম করা হচ্ছে। খোয়ার পরিবর্তে নির্মাণবর্জ্য এবং ড্রেন নির্মাণে নিম্নমানের পাথর ব্যবহার করা হয়েছে।
তবে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভিওডি বাংলা/আ








মন্তব্য