কাশ্মীর ইস্যু ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল নয়াদিল্লি

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন এবং জম্মু ও কাশ্মীরের পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা পুনর্বহালের দাবিতে পৃথক বিক্ষোভকে ঘিরে সোমবার (২০ জুলাই) উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি। দুটি কর্মসূচিতে পুলিশি বাধা, লাঠিচার্জ, মেট্রো স্টেশন বন্ধ এবং কিছু এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট সেবা স্থগিতের ঘটনাও ঘটে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর নেতৃত্বে শত শত মানুষ দিল্লিতে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। ২০১৯ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে রূপান্তরের পর এটিই এ দাবিতে অন্যতম বড় কর্মসূচি।
ওমর আবদুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দিয়েছে। তিনি শেয়ার করা ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা পোস্টার হাতে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের রাজ্যের মর্যাদা, অধিকার এবং কেড়ে নেওয়া সম্মান ফিরিয়ে আনার যে সংগ্রাম, এটি কেবল শুরু।’
২০১৯ সালের আগস্টে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা বাতিল করেন। একই সঙ্গে রাজ্যটির মর্যাদা প্রত্যাহার করে সেটিকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করা হয়, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ।
ভারত সরকার বারবার জানিয়ে আসছে, উপযুক্ত সময়ে জম্মু ও কাশ্মীরকে আবার রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া হবে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি।
এদিকে কাশ্মীরের ক্ষমতাসীন দল জম্মু ও কাশ্মীর ন্যাশনাল কনফারেন্স দ্রুত সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে বিজেপি নেতারা এই বিক্ষোভকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনিক ব্যর্থতা আড়াল করতেই ওমর আবদুল্লাহ এই কর্মসূচির আয়োজন করেছেন।
ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশই কাশ্মীরের পুরো ভূখণ্ডের দাবি করলেও বর্তমানে অঞ্চলটির বিভিন্ন অংশ দুই দেশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
অন্যদিকে একই দিনে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ করে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দলটির হাজারো সমর্থক পার্লামেন্ট ভবনের দিকে পদযাত্রার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়।
এই কর্মসূচিকে ঘিরে দিল্লির রাজীব চকসহ পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। পাশাপাশি রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
বিক্ষোভ চলাকালে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকেকে পুলিশ আটক করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। তবে এ সময় দলটির দুই নেতা ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে. পি. নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রায় ১০ মিনিটের ওই বৈঠক শেষে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, তারা লিখিত দাবি তুলে দিয়েছেন এবং বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার আশ্বাস পেয়েছেন।
ভিওডি বাংলা/এমএস








মন্তব্য