বালিশের সঙ্গে আবেগ থাকার কিছু ক্ষতিকর দিক

"এই বালিশ ছাড়া আমার ঘুমই আসে না!" এমন মানুষের সংখ্যা অনেক। কেউ আবার এতটাই আবেগপ্রবণ যে বালিশের কভার ৫ বার বদলেছে, কিন্তু বালিশটা একই! মনে হয়, ওটা আর বালিশ নয়, পরিবারের সবচেয়ে নীরব সদস্য।
কিন্তু একটা প্রশ্ন, শেষ কবে নতুন বালিশ কিনেছিলেন? মনে করতে না পারলে ধরে নিন, আপনার বালিশের চাকরির মেয়াদ প্রায় শেষ!
কারণ, বছরের পর বছর একই বালিশ ব্যবহার করলে সেটি শুধু নরমই হয় না, ধীরে ধীরে জমে ওঠে ধুলাবালি, ঘাম, ত্বকের মৃত কোষ আর চোখে না দেখা ক্ষুদ্র জীবাণুরও আস্তানা। অর্থাৎ, আপনার আরামের সঙ্গীই অজান্তে হয়ে উঠতে পারে জীবাণুর প্রিয় ঠিকানা।
কতদিন পর বদলাবেন?
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ বলছে, সাধারণভাবে ১ থেকে ২ বছর পর বালিশ বদলে ফেলা ভালো। তবে যদি আপনার বালিশের বয়স জিজ্ঞেস করলে উত্তর আসে, "করোনার আগের" কিংবা "বিশ্বকাপের সময় কিনেছিলাম, কোনটা মনে নেই!" তাহলে আর দেরি না করাই ভালো।
যে লক্ষণগুলো দেখলেই বুঝবেন বালিশ অবসরে যেতে চায়-
সকালে উঠে ঘাড় ব্যথা করছে
বালিশের মাঝখানে এমন গর্ত হয়েছে, মনে হয় কেউ স্থায়ী ঠিকানা বানিয়েছে
ধোয়ার পরও গন্ধ যায় না
কভার খুললেই মনে হয় ইতিহাসের পাতায় ঢুকে পড়েছেন
ভাঁজ করলে আগের মতো আর সোজা হয় না
এগুলোর যেকোনো একটি থাকলেই নতুন বালিশের দিকে তাকানোর সময় এসেছে।
পুরোনো বালিশের 'সাইড ইফেক্ট-
ঘুম নষ্ট করে
ঘাড় ও কাঁধে ব্যথা বাড়াতে পারে
অ্যালার্জি বা হাঁচির সমস্যা তৈরি হতে পারে
ভালো ঘুম না হওয়ায় সারাদিন মেজাজ খিটখিটে থাকতে পারে
ত্বকের সমস্যাও বাড়তে পারে, বিশেষ করে যদি বালিশ পরিষ্কার না থাকে
বালিশেরও দরকার একটু যত্ন-
সপ্তাহে একবার কভার ধুয়ে ফেলুন।
মাসে অন্তত একবার রোদে দিন।
বালিশকে বিছানার "স্থায়ী বাসিন্দা" বানিয়ে রাখবেন না।
শেষ কথা
মোবাইল দুই-তিন বছর পর বদলান, জুতা ছিঁড়লে নতুন কেনেন, কিন্তু বালিশের বেলায় কেন এত মায়া? মনে রাখবেন, আপনি প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা যার ওপর মাথা রাখেন, সে যদি তার কাজই ঠিকমতো না করতে পারে, তাহলে সকালটা ভালো যাবে কীভাবে?
তাই বালিশের সঙ্গে প্রেম থাকুক, কিন্তু সম্পর্কটা যেন আজীবনের না হয়।
ভিওডি বাংলা/তা








মন্তব্য