সভা ডেকেছে জাতীয় কমিটি, দুশ্চিন্তা কাটছে ১৪ হাজার শিক্ষকের

অবশেষে নিয়োগের চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও পাঁচমাস ধরে ঝুলে থাকা প্রাথমিকের ১৪ হাজার ৩৮৪ সহকারী শিক্ষকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সভা ডেকেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত জাতীয় কমিটি।
রোববার (২৮ জুন) মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ সভায় নির্ধারিত হবে তাদের ভাগ্য।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তড়িঘড়ি নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া এবং অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় ওই শিক্ষকদের পদায়ন ও বদলি প্রক্রিয়া প্রক্রিয়া স্থগিত থাকে। বিষয়টি নিয়ে কয়েক ধাপে যাচাই করে তাদের যোগদান ও পদায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
সূত্র জানায়, ২৪ জুন এক চিঠির মাধ্যমে ওই সভা ডাকে মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে নবনিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের পদায়ন, কর্মরত সব শিক্ষকের বদলি-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা ও পর্যালোচনা করে নিষ্পত্তিকরণের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় কমিটির সভা ২৮ জুন বিকেল ৩টায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেনের সভাপতিত্বে তার অফিসকক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এর আগে ২২ জুন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে কর্মরত শিক্ষকদের বদলি সংক্রান্ত কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা, পর্যালোচনা এবং নিষ্পত্তি করার লক্ষ্যে কমিটি গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, ‘নতুন একটি কমিটি হয়েছে। সেটার প্রথম সভা হবে। এখানে বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা করা হবে। তবে এদিনই যে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে যোগদানের অপেক্ষায় থাকা শিক্ষকদের জন্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে, সেটি বলা সম্ভব নয়।’
গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় (পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া) একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা (এমসিকিউ টাইপ) অনুষ্ঠিত হয়। উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হন। মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয় ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে। তাতে জেলাভিত্তিক উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকাও প্রকাশ করা হয়।
লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সব প্রক্রিয়া শেষ করলেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা এখনো যোগদান করতে পারেননি। এমন পরিস্থিতিতে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক। এ নিয়ে গত এপ্রিলের শেষ দিকে রাজধানীতে আন্দোলনে নামেন তারা। এরপর তাদের প্রশিক্ষণ শেষে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।
ভিওডি বাংলা/আরআর/আ








মন্তব্য