মাদক-অস্ত্র ব্যবসার অভিযোগে সাবেক আফগান এমপির বিচার শুরু

মাদক ও ভারী অস্ত্র পাচারের অভিযোগে আফগানিস্তানের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল জহির কাদিরকে কেনিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মাদক ও অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম শুরু হবে।
শুক্রবার (১১ জুলাই) প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়, গত বছরের এপ্রিলে কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি থেকে আবদুল জহির কাদিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পরিসরে বড় ধরনের মাদক ও অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের আগে কাদির দেশটির জাতীয় পরিষদের ডেপুটি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি একসময় আফগান সীমান্ত বাহিনীর জেনারেলও ছিলেন।
ভারপ্রাপ্ত মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ বলেন, ‘আফগানিস্তানের রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচিতি ব্যবহার করলেও আবদুল জহির কাদির বিপজ্জনক ও আসক্তিকর মাদক এবং ভারী অস্ত্রের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত একটি অপরাধী চক্র পরিচালনা করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।’
মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, কাদির যুক্তরাষ্ট্রে শত শত কেজি হেরোইন ও মেথামফেটামিন পাচারের বিষয়ে এক ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। পরে জানা যায়, ওই ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (ডিইএ) এর হয়ে কাজ করা একজন গোপন সহযোগী ছিলেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কাদির শত শত ভারী মেশিনগান, অ্যাসল্ট রাইফেল, স্নাইপার রাইফেল, রকেটচালিত গ্রেনেড লঞ্চার, পিস্তল ও গ্রেনেড বিক্রির বিষয়েও আলোচনা করেছিলেন।
মার্কিন অ্যাটর্নি জে ক্লেটন বলেন, ‘বিপুল পরিমাণ মাদক ও অস্ত্র পাচারের চেষ্টা করতে গিয়ে কাদির একটি পরীক্ষামূলক চালান হিসেবে দুই কেজি মাদক বিক্রি করেছিলেন, যা দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘কাদির জানতেন না যে ওই ক্রেতা আসলে ডিইএর সঙ্গে কাজ করা একজন ব্যক্তি ছিলেন।’
মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র আমদানির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে আবদুল জহির কাদিরের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।
ভিওডি বাংলা/এমএস








মন্তব্য