২০১১ সালে যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম সিরিয়া সফরে যাচ্ছেন জাতিসংঘ মহাসচিব
সিরিয়ার প্রায় ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম দেশটি সফরে যাচ্ছেন জাতিসংঘের কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত মহাসচিব। শনিবার দামেস্কে পৌঁছানোর কথা রয়েছে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের। সফরে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং নতুন পার্লামেন্টে ভাষণ দেবেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের শেষ দিকে বিদ্রোহীরা সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সিরিয়ার প্রত্যাবর্তনের পথে এটি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গুতেরেসের এটি ২০০৯ সালের পর সিরিয়া সফররত কোনো জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রথম সফর। ২০১১ সালে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে জাতিসংঘের কোনো মহাসচিব দেশটিতে যাননি।
সফরে গুতেরেস প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ হাসান আল-শাইবানিসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সিরিয়ার নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেছেন, গুতেরেস তার বৈঠকগুলোতে তুলে ধরবেন যে, সিরিয়ার সামনে এখন শুধু যুদ্ধ থেকে পুনরুদ্ধারের সুযোগই নয়, বরং একটি আরও স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সম্ভাবনাও রয়েছে।
তবে গুতেরেসের পুরো সফরসূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি কয়েক দিন দামেস্কে অবস্থান করবেন।
আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বাধীন সরকার দীর্ঘদিনের যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার পর সিরিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্ক ও অর্থনীতি পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে।
আল-শারা একসময় সিরিয়ায় আল-কায়েদার সহযোগী সংগঠনের নেতৃত্বে ছিলেন। ২০১৬ সালে তিনি ওই সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। পরে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইসলামপন্থি বিদ্রোহী জোটের নেতৃত্ব দিয়ে বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করেন।
ক্ষমতায় আসার পর তার সরকার রাশিয়া ও ইরানের বাইরে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে। গত বছর তিনি ১৯৬৭ সালের পর প্রথম সিরীয় প্রেসিডেন্ট হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে সিরিয়ার ওপর আরোপিত অধিকাংশ অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে। চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সিরিয়াকে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার ইচ্ছার কথা আল-শারাকে জানিয়েছেন।
সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ:
যদিও নতুন সরকারের অধীনে সিরিয়া নতুন যাত্রা শুরু করেছে, তবে দেশটি এখনো সাম্প্রদায়িক সহিংসতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে।
গত বছর উপকূলীয় অঞ্চলে সরকারপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ আলাওয়ি সম্প্রদায়ের মানুষ নিহত হন। পরে দক্ষিণ সিরিয়ায় দ্রুজ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শত শত মানুষও সহিংসতায় প্রাণ হারান।
এই দুই ঘটনাতেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গুতেরেস এবং দোষীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, সোমবার সিরিয়ার নতুন পার্লামেন্টে ভাষণ দেবেন গুতেরেস। এছাড়া তিনি ইসরায়েল ও সিরিয়ার মধ্যকার বাফার জোনে কয়েক দশক ধরে দায়িত্ব পালন করা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদেরও পরিদর্শন করবেন।
বাশার আল-আসাদের পতনের পর ইসরায়েল দক্ষিণ সিরিয়ার নতুন কিছু এলাকা দখল করে। এ নিয়ে দামেস্ক সরকার ইসরায়েলি বাহিনীকে সরে গিয়ে ১৯৭৪ সালের বিচ্ছিন্নতা চুক্তি (Disengagement Agreement) মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গুতেরেসের এই সফর শুধু জাতিসংঘ ও সিরিয়ার সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রেই নয়, বরং দীর্ঘ যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
ভিওডি বাংলা/জা









মন্তব্য