• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের খসড়া দ্রুত অনুমোদনের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ০১:২২ পি.এম.
ছবি: ভিওডি বাংলা

জনস্বাস্থ্য রক্ষায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রস্তাবিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের খসড়াটি দ্রুত অনুমোদনের জোর দাবি জানিয়েছে উবিনীগ (উন্নয়ন বিকল্পের নীতি নির্ধারণী গবেষণা) ও তাবিনাজ (তামাক বিরোধী নারী জোট)। 

রোববার (৩০ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এই দাবি জানানো হয়েছে। 

এসময় উপস্থিত ছিলেন, উবিনীগ'র পরিচালক সীমা দাস সীমু, তাবিনাজ'র সদস্য শারমিন কবির বীনা, স্বাস্থ্য আন্দোলন নেটওয়ার্কের সদস্য আমিনূর রসুল, গ্রীণ বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স  ফেডারেশনের সভাপতি সুলতানা বেগম প্রমুখ।  

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা দাবি জানান, তামাকের ভয়াল থাবা থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা এবং অধূমপায়ীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে বর্তমান আইনটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করা জরুরি।   

এসময় তামাকের ভয়াবহ স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক ক্ষতির চিত্র তুলে তারা বলেন, ‘তামাকের ধোঁয়ায় প্রায় ৭০০০ ধরণের রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে, যার মধ্যে ২৫০টি মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

বাংলাদেশে প্রতি বছর তামাকজনিত রোগে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করেন এবং বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ তামাকজনিত রোগে আক্রান্ত (টোব্যাকো এটলাস, ২০২২)।’ 

বক্তারা আরও জানান, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ ইয়র্ক, ইউনিভার্সিটি অফ এডিনব্যার্গ এবং লিডস সিটি কাউন্সিলের জনস্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ গবেষয়াণায় দেখা গেছে— ঢাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯২ শতাংশ শিক্ষার্থীর লালায় নিকোটিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা পরোক্ষ ধূমপানের ভয়াবহ বিস্তার নির্দেশ করে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তামাক খাত থেকে সরকার যে রাজস্ব পেয়েছিল, তার চেয়ে ৩৪ শতাংশ বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে তামাকজনিত রোগের চিকিৎসায়।’ 

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রস্তাবিত খসড়া আইনে তামাক নিয়ন্ত্রণে যে ৬টি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে, সেগুলোর পক্ষে উবিনীগ ও তাবিনাজের সদস্যরা সমর্থন জানিয়ে বলেন, সকল পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে 'ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান' (Designated Smoking Areas - DSA) বিলুপ্ত করতে হবে। বিক্রয়কেন্দ্রে তামাকপণ্যের প্রদর্শনী (Product Display) নিষিদ্ধ করতে হবে। তামাক কোম্পানির তথাকথিত সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR) কার্যক্রম পুরোপুরি নিষিদ্ধ করতে হবে। তরুণদের সুরক্ষায় ই-সিগারেট ও ভ্যাপিং পণ্য উৎপাদন, আমদানি ও বিক্রি নিষিদ্ধ করাসহ তামাকপণ্যের মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার আকার ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ করতে হবে। এছাড়া বিড়ি-সিগারেটের খুচরা শলাকা এবং খোলা ধোঁয়াবিহীন তামাক পণ্য বিক্রি নিষিদ্ধ করতে হবে বলেও জানান তারা। 

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনা লঙ্ঘন করে বৈশ্বিক তামাক কোম্পানি ফিলিপ মরিসকে (Philip Morris) বাংলাদেশে নিকোটিন পাউচ তৈরির কারখানা স্থাপনের অনুমোদন দেওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং অবিলম্বে এই অনুমোদন বাতিলের দাবি জানিয়েছে উবিনীগ এবং তাবিনাজ সদস্যরা।

তামাক কোম্পানির বিভিন্ন অপপ্রচারের জবাব দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আইন শক্তিশালী হলে রাজস্ব কমার আশঙ্কা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। অতীতে ২০০৫ ও ২০১৩ সালে আইন পাসের পর রাজস্ব আয় বরং বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও কর্মসংস্থান হারানোর যে ভয় দেখানো হয় তা বাস্তবসমাত নয়। বিবিএস-এর জরিপ অনুযায়ী, দেশে বিড়ি শ্রমিকের সংখ্যা তামাক কোম্পানির দাবিকৃত সংখ্যার চেয়ে অনেক কম এবং খুচরা বিক্রেতারা কেবল তামাক পণ্য বিক্রি করেন না, তাই তাদের জীবিকা বিপন্ন হওয়ার শঙ্কা নেই।

মাদকের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত তামাক থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে প্রস্তাবিত আইনটি দ্রুত পাস করার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় উবিনীগ ও তাবিনাজ সদস্যরা।


ভিওডি বাংলা/ এমএইচ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ঢাকায় ভোটকেন্দ্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ
ঢাকায় ভোটকেন্দ্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ
ফেব্রুয়ারিতে এলপিজির দাম বাড়ল ৫০ টাকা
ফেব্রুয়ারিতে এলপিজির দাম বাড়ল ৫০ টাকা
পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা
পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা