• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

জাতীয় সংসদ নির্বাচন

নারী প্রার্থীশূন্য জামায়াতসহ ৩০ দল

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক    ৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:০১ পি.এম.
জাতীয় সংসদ ভবন। ছবি-সংগৃহীত

জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ৫১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩০টিতেই কোনো নারী প্রার্থী নেই। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থীর উপস্থিতি নিতান্তই কম। তথ্য বলছে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে মোট ২,৫৬৮ প্রার্থীর মধ্যে নারী রয়েছেন মাত্র ১০৯ জন, যা শতাংশের হিসাবে ৪.২৪ ভাগ। এর মধ্যে ৭২ জন দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন, বাকিরা স্বতন্ত্র।

নারী প্রার্থীশূন্য যেসব দল

জামায়াতে ইসলামী ২৭৬টি মনোনয়ন জমা দিলেও কোনো নারী প্রার্থী নেই। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৬৮টি মনোনয়নেও নারী প্রার্থী শূন্য। বাংলাদেশ খিলাফত মজলিস (৯৪), খিলাফত মজলিস (৬৮), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (২৭) প্রভৃতি দলও শুধু পুরুষ প্রার্থীই দিয়েছে।

লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) ২৪, জনতার দল ২৩, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোট ২০ ও বাংলাদেশ কংগ্রেস ১৮টি করে আসনে প্রার্থী দিলেও তাদের মধ্যেও নারী নেই কেউ। জাতীয় পার্টি (জেপি) ১৩, বাংলাদেশ খিলাফত আন্দোলন ১১, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট ৯, বাংলাদেশ জাসদ ৯টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে নারী ছাড়াই।

এছাড়া ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্র্যাটিক মুভমেন্ট (৮), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম (৮), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএল (৭), জাকের পার্টি (৭), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি (৬), গণফ্রন্ট (৬), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (সিরাজুল) (৫), জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ (৫)-ও নারী প্রার্থী দিচ্ছে না। তিন বা ততোধিক আসনে প্রার্থী দেয়া আরও বেশকিছু ক্ষুদ্র দলেও নারী নেই।

যেসব দল নারী প্রার্থী দিয়েছে

নারী প্রার্থী দেয়া ২১টি দলের সংখ্যাও সীমিত। জাতীয় পার্টি (জিএম কাদের) ও নতুন নিবন্ধিত বাসদ (মার্কসবাদী) প্রত্যেকে ৯ জন করে নারী প্রার্থী দিয়েছে। চার দশকের বেশি সময় ধরে নেতৃত্বে একজন নারী থাকা বিএনপি ৩০০ আসনের জন্য ৩২৮ জনের বিপরীতে মাত্র ১০ জন নারীকে টিকিট দিয়েছে। জাসদ, গণসম্মিলন আন্দোলন, বাসদ ও এবি পার্টির মতো দলগুলো তিন থেকে ছয়জন নারী প্রার্থী দিয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের নেতাদের গড়া এনসিপি ৪৪ প্রার্থীর মধ্যে তিনজন নারী দিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও নির্বাচনী সংস্কার কমিটির সদস্য জেসমিন তুলি বলেন, নির্বাচন নারী-বান্ধব নয়। তিনি বলেন, বড় দলগুলো খুব অল্প নারীকে মনোনয়ন দেয়, ছোট দলগুলো সেই ধারা অনুসরণ করে। আর্থিক প্রতিবন্ধকতা, সামাজিক মনোভাব ও ‘মাসল পাওয়ার’-এর অভাবে নারীরা নির্বাচনে অংশ নিতে নিরুৎসাহিত হন।

তিনি আরও বলেন, যেসব নারী এগিয়ে আসেন, তাদের বেশিরভাগই রাজনৈতিক পরিবার থেকে আসেন। মাঠকর্মের মাধ্যমে অল্পই উঠে আসেন। রাজনৈতিক দলগুলো নারীর আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলেনি বা দলীয় কমিটিতে অর্থপূর্ণভাবে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেনি। আন্দোলনের সময় নারীদের দেখা যায়, কিন্তু নির্বাচনের সময় তাদের প্রান্তিক করা হয়। দলগুলো আর্থিকভাবে নারীদের সমর্থন দিতে পারত, কিন্তু নীতিগত পর্যায়েও এমন উদ্যোগ দেখা যায় না।

আইন ও বাস্তবতার পার্থক্য

প্রতিনিধিত্বকারী জনপ্রতিনিধি আদেশ (আরপিও), ১৯৭২ অনুযায়ী দলগুলোকে কমিটির পদের অন্তত ৩৩ শতাংশ নারীর জন্য সংরক্ষণ করতে হবে। কিন্তু প্রায় সব দলই এই বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে ব্যর্থ। ২০২১ সালে নির্বাচন কমিশন এই সময়সীমা ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়িয়েছে।

ফেয়ার ইলেকশন মনিটরিং অ্যালায়েন্সের সভাপতি মুনিরা খান এই পরিস্থিতিকে ‘গভীরভাবে হতাশাজনক’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, নারী অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে এবং জনসংখ্যার অর্ধেক, অথচ সংসদীয় মনোনয়নে তাদের উপস্থিতি নগণ্য। আমরা সর্বদা গণতন্ত্রের কথা বলি, কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের এই চিত্র গভীরভাবে হতাশাব্যঞ্জক।

নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান শিরিন হক নারী প্রতিনিধিত্বের এই নিম্নমুখী চিত্র দেখে ‘হতাশ তবে অবাক নন’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি পুরুষ-আধিপত্যবাদী রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রকাশ। এমন ফলাফল আঁচ করতে পেরে কমিশন ৫০-৫০ প্রতিনিধিত্বের একটি মডেল প্রস্তাব করেছিল, যেখানে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ আসনের পাশাপাশি নারীদের জন্য একটি সংরক্ষিত আসন থাকবে। তিনি বলেন, এই প্রস্তাব অনুযায়ী সংসদ সদস্য সংখ্যা ৬০০ হবে এবং নারীরা সরাসরি ভোটে নারীদের বিপক্ষে লড়বেন।

ভিওডি বাংলা/ এমএইচ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
মহান মে দিবস আজ
মহান মে দিবস আজ
হাসপাতাল এলাকাগুলোতে ভয়াবহ শব্দদূষণ: শীর্ষে চট্টগ্রাম ও রাজশাহী
হাসপাতাল এলাকাগুলোতে ভয়াবহ শব্দদূষণ: শীর্ষে চট্টগ্রাম ও রাজশাহী
আন্ডারওয়ার্ল্ডে আধিপত্যের দ্বন্দ্ব, পুরনো বিরোধে বাড়ছে প্রকাশ্যে খুন
আন্ডারওয়ার্ল্ডে আধিপত্যের দ্বন্দ্ব, পুরনো বিরোধে বাড়ছে প্রকাশ্যে খুন