• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

সেলিমা রহমান

রাজনৈতিক নিপীড়ন পেরিয়ে এখন বিশ্বমর্যাদায় খালেদা জিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৪৩ পি.এম.
বক্তব্য রাখছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান। ছবি: ভিওডি বাংলা

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেছন, ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা হলেও সত্য ইতিহাস চাপা থাকে না। যাঁকে তিলে তিলে নিঃশেষ করার চেষ্টা করা হয়েছিল, আজ সেই বেগম খালেদা জিয়া বিশ্বব্যাপী সম্মানের প্রতীক। রাজনৈতিক নিপীড়ন পেরিয়ে এখন বিশ্বমর্যাদায় রয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর কবর জিয়ারতে মানুষের ঢলই তার প্রমাণ। ক্ষমতায় না থেকেও তিনি মানুষের হৃদয়ে সর্বোচ্চ সম্মান নিয়ে বিদায় নিয়েছেন।

সোমবার (১২ জানুয়ারী) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে জাতীয়তাবাদী নবীন দল আয়োজিত বিএনপি চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল ও শোক সভায় তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তাঁর মৃত্যু একটি মহাকালের পতন, একটি মহান অধ্যায়ের সমাপ্তি। তিনি দীর্ঘ সংগ্রাম শেষে মানুষের ভালোবাসা ও সম্মান নিয়ে বিদায় নিয়েছেন। তাঁর চলে যাওয়ায় বাংলাদেশের আকাশ থেকে যেন একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র ঝরে পড়েছে। যদিও তিনি আজ আমাদের চোখের আড়ালে, তবু তাঁর আদর্শ, চিন্তা ও চেতনা আমাদের মননে এখনো দীপ্ত হয়ে জ্বলছে এবং সেই আলো থেকেই আমরা সাহস ও প্রেরণা পাচ্ছি।

সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন উল্লেখ করে সেলিমা রহমান বলেন, বিএনপি চায় একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। এই আন্দোলন-সংগ্রামে বেগম খালেদা জিয়ার যোগ্য উত্তরাধিকার হিসেবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।

তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ আমাদের মাঝে নেই—এটি বেদনাদায়ক।   আমরা শোককে শক্তিতে রূপান্তর করার চেষ্টা করছি, আর সেই শক্তিই আজ বাংলাদেশের জনগণের শক্তি।

সেলিমা রহমান বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার সারাজীবন ছিল সংগ্রামে ভরা। তিনি গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার পতাকা দৃঢ়ভাবে সমুন্নত রেখেছেন এবং বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন। জীবনে তিনি যে নির্যাতন, নিপীড়ন ও অত্যাচার সহ্য করেছেন, তা তাঁর প্রাপ্য ছিল না। তবুও তিনি আপসহীন দেশপ্রেমে অবিচল ছিলেন।

তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাড়ে তিন বছরে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে আত্মনির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলেন। সেই সাফল্যের কারণেই তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হন। তাঁর শাহাদাতের পর দেশের ও দলের প্রয়োজনে বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতিতে আসেন। তিনি কখনো ক্ষমতার জন্য নয়, দেশ, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য রাজনীতি করেছেন।

তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী ও শিশু শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং বাংলাদেশকে বিশ্বে একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করেন বলে মন্তব্য করেন সেলিমা রহমান। 

তিনি বলেন, প্রকৃত সংস্কারের সূচনা শহীদ জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা থেকেই শুরু হয়, যা পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন ও কর্মসূচি এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখায় পরিণত হয়েছে।

সেলিমা রহমান বলেন, বেগম খালেদা জিয়া চিরদিন আমাদের মাঝে এক উজ্জ্বল আলোকশিখা হয়ে থাকবেন। তাঁর আদর্শ ও চিন্তার আলো এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার পথে এগিয়ে যাবে। রাষ্ট্র সংস্কারের পাশাপাশি মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করাই হবে দলের প্রধান লক্ষ্য।

সংগঠনের সভাপতি হুমায়ুন আহমেদ তালুকদারের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোঃ রহমতুল্লাহ, সাবেক সংসদ সদস্য নূর আফরোজ জ্যোতি, সংগঠনের সাধারন সম্পাদক সোহেল রানা, মাহবুবুর রহমান হারেজ প্রমূখ।

ভিওডি বাংলা/ সবুজ/ আরিফ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
সংস্কার নিয়ে সরকার প্রতারণা করছে, সনদ বাস্তবায়নে তাদের বাধ্য করতে হবে
জাতীয় নাগরিক পার্টি সংস্কার নিয়ে সরকার প্রতারণা করছে, সনদ বাস্তবায়নে তাদের বাধ্য করতে হবে
সংসদের প্রথম অধিবেশন ব্যর্থ হয়েছে : নাহিদ ইসলাম
সংসদের প্রথম অধিবেশন ব্যর্থ হয়েছে : নাহিদ ইসলাম
মানবাধিকার সার্বজনীন, ভিন্নমত দমনের সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে
মানবাধিকার সার্বজনীন, ভিন্নমত দমনের সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে