• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

তামিলনাড়ু

৪৯ বছরের রেকর্ড ভাঙতে যাচ্ছেন থালাপতি বিজয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ৪ মে ২০২৬, ০৬:৫৫ পি.এম.

ভারতের তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ঐতিহাসিক পরিবর্তন আনতে যাচ্ছেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে আসা জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর (থালাপতি বিজয়)। চলতি বিধানসভা নির্বাচনে চূড়ান্তভাবে জয়ী হলে প্রায় ৪৯ বছরের রাজনৈতিক ধারার অবসান ঘটাবেন তিনি। কারণ, ১৯৭৭ সালের পর সরাসরি জনগণের ভোটে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেননি কোনো চলচ্চিত্র তারকা।

১৯৭৭ সালে কিংবদন্তি অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ এম জি রামচন্দ্রন তামিলনাড়ুর ক্ষমতায় আসেন এবং টানা এক দশকের বেশি সময় রাজ্য পরিচালনা করেন। বিপুল জনপ্রিয়তাকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করে জনকল্যাণমূলক রাজনীতির এক নতুন ধারা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে জয়ললিতা মুখ্যমন্ত্রী হলেও তিনি নিজস্ব নতুন দল গড়ে নয়, বরং তার রাজনৈতিক গুরু এম.জি. রামচন্দ্রনের প্রতিষ্ঠিত এআইএডিএমকে-এর নেতৃত্ব নিয়েই ক্ষমতায় আসেন।

সোমবার (৪ মে) বিধানসভা নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্রি কাজগম (টিভিকে) ১০৮টি আসনের মধ্যে এগিয়ে রয়েছে। তামিলনাড়ুর ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য ১১৮টি আসন প্রয়োজন, ফলে বিজয় এখন সংখ্যাগরিষ্ঠতার একেবারে কাছাকাছি অবস্থান করছেন।

বিজয়ের এ উত্থান হঠাৎ নয়, বরং দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত প্রস্তুতির ফল। ২০০৯ সালে ভক্তদের সংগঠনকে ‘বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কম’ হিসেবে সংগঠিত করেন তিনি, যা শুরুতে একটি সামাজিক ও সেবামূলক প্ল্যাটফর্ম ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সংগঠনটি তৃণমূল পর্যায়ে বিস্তৃত হয়ে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক নেটওয়ার্কে পরিণত হয়।

২০১১ সালে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে এআইএডিএমকে-নেতৃত্বাধীন জোটকে সমর্থন দেন বিজয়। এরপর ধীরে ধীরে তার জনসভা, চলচ্চিত্র-সংক্রান্ত অনুষ্ঠান এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে রাজনৈতিক বক্তব্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বেকারত্ব, শিক্ষা, দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার মতো বিষয়গুলো সামনে আনতে শুরু করেন তিনি, যা বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে সাড়া ফেলে।

২০২১ সালের স্থানীয় নির্বাচনে বিজয়ের সংগঠনের প্রার্থীরা ভালো ফলাফল করলে প্রমাণ হয় যে তার জনপ্রিয়তা বাস্তব ভোটে রূপান্তরিত হতে পারে। এরপর ২০২৪ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তামিলাগা ভেট্রি কাজগম দল গঠন করে জোট ছাড়াই নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে প্রায় তিন দশকের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার থেকে সরে এসে পুরোপুরি রাজনীতিতে মনোনিবেশ করেন বিজয়।

তবে বিজয়ের এ পথ মসৃণ ছিল না। ২০২৫ সালে করুরে একটি অনুষ্ঠানে পদদলিত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা তার নেতৃত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তিনি প্রকাশ্যে দায় স্বীকার করে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন, যা তার রাজনৈতিক দায়িত্ববোধের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বর্তমানে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ডিএমকে, এআইএডিএমকে এবং বিজয়ের টিভিকে—এই তিনটি শক্তির মধ্যে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিনের দ্বিমুখী রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে নতুন সমীকরণ গড়ে উঠতে যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এমজিআরের উত্থান যেখানে জনকল্যাণমূলক রাজনীতি ও ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভরশীল ছিল, সেখানে বিজয়ের জনপ্রিয়তা তৈরি হয়েছে নতুন প্রজন্মের উদ্বেগ, শাসনব্যবস্থার ক্লান্তি এবং স্বচ্ছ পরিবর্তনের প্রত্যাশা থেকে।

সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের এই নির্বাচন তামিলনাড়ুর রাজনীতিকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে। বিজয় যদি সরকার গঠন করতে পারেন, তবে তিনি প্রায় পাঁচ দশক পর প্রথম অভিনেতা-রাজনীতিবিদ হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীর পদে অধিষ্ঠিত হবেন।

ভিওডি বাংলা/এফএ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
কেনিয়ায় আকস্মিক বন্যায় ১৮ জনের মৃত্যু
কেনিয়ায় আকস্মিক বন্যায় ১৮ জনের মৃত্যু
বড় ব্যবধানে এগিয়ে বিজেপি, আশা ছাড়েননি মমতা
বড় ব্যবধানে এগিয়ে বিজেপি, আশা ছাড়েননি মমতা
প্রজেক্ট ফ্রিডমে অংশ নেবে ১৫ হাজার সেনা
হরমুজে মার্কিন অভিযান প্রজেক্ট ফ্রিডমে অংশ নেবে ১৫ হাজার সেনা