• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

ভাঙ্গুড়ায় সরিষা ক্ষেতে ব্যস্ত মৌচাষিরা

পাবনা প্রতিনিধি    ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:০০ পি.এম.
বেতুয়ান গ্রামে সরিষা ক্ষেতে মৌচাষিরা মধু সংগ্রহেব্যস্ত সময় পার করছেন -ছবি-ভিওডি বাংলা

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরিষা ক্ষেত থেকে বাণিজ্যিকভাবে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌচাষিরা। শীত মৌসুমের শুরু থেকেই উপজেলার বিস্তীর্ণ সরিষা ক্ষেতে সারিবদ্ধভাবে বসানো হয়েছে হাজার হাজার মৌমাছির বাক্স। চলতি মৌসুমে এ উপজেলা থেকে প্রায় কোটি টাকার মধু উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মৌচাষিরা। 

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) মৌচাষিরা জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও ডিসেম্বর মাস থেকে মধু সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। 

যশোর, কুষ্টিয়া, সিরাজগঞ্জ ও নাটোরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মৌচাষিরা বিখ্যাত চলনবিল অঞ্চলের পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌমাছির বাক্স বসিয়ে দিন-রাত মধু সংগ্রহ করছেন। প্রতি বছর ভাঙ্গুড়া উপজেলা থেকে প্রায় কোটি টাকার মধু উৎপাদন হয়ে থাকে। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে উপজেলার ছয় টি ইউনিয়নের বিভিন্ন অঞ্চলে দিগন্ত জোড়া সরিষা ক্ষেত হলুদ ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে। এসব মাঠে সারিবদ্ধভাবে বসানো মৌমাছির বাক্স থেকে লাখ লাখ মৌমাছি সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করছে।

প্রতিটি মৌমাছির বাক্সে প্রায় এক লাখ কর্মী মৌমাছি ও একটি রানী মৌমাছি থাকে। আট থেকে দশ দিন পরপর প্রতিটি বাক্স থেকে গড়ে ২৫ থেকে ৩০ কেজি মধু সংগ্রহ করা যায়। গত মৌসুমে উপজেলা থেকে প্রায় ৩০ মেট্রিক টন মধু উৎপাদন হয়েছিল, যা এ বছর আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভাঙ্গুড়ায় মধু সংগ্রহে করতে আসা সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার মৌচাষি জয়নাল আবেদীন জানান, ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহ করা হয়। বছরের ছয় মাস মধু সংগ্রহের পাশাপাশি বাকি ছয় মাস মৌমাছি পালন করা হয়। 

তিনি দুইজন কর্মচারী ও ১৫০টি মৌমাছির বাক্স নিয়ে উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের বেতুয়ান গ্রামে মধু সংগ্রহ করছেন। বর্তমানে প্রতি কেজি মধু ৪০০-৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

আরেক মৌচাষি নাটোরের কামাল হোসেন বলেন, ‘ভাঙ্গুড়ার সরিষা ক্ষেত বড় হওয়ায় এখানে মধু উৎপাদন ভালো হয়। পরিবেশ অনুকূলে থাকলে স্বল্প খরচে বেশি মধু সংগ্রহ করা সম্ভব। তাই প্রতি বছরই আমরা এখানে এসে মৌমাছির মধু সংগ্রহ করি।’

স্থানীয় মধু ক্রেতা আব্দুল হালিম বলেন, ‘ভাঙ্গুড়ার সরিষা ফুলের মধু খুবই খাঁটি ও মান-সম্মত। তাই আমরা সরাসরি মাঠ থেকেই মধু কিনে থাকি।’

অন্য ক্রেতা সাখাওয়াত হোসেন জানান, এই মধুর স্বাদ ও গুণগত মান ভালো হওয়ায় প্রতি বছর এখান থেকেই আমরা মধু সংগ্রহ করি। বাজারের তুলনায় এখানে খাঁটি মধু পাওয়া যায়।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন জাহান জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৬ হাজার ৬৩০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করেছে স্থানীয় কৃষকরা। মধু সংগ্রহে মৌচাষিদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। 

তিনি বলেন, সরকারিভাবে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মৌচাষে আগ্রহ বাড়ানো গেলে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং তারা সহজেই স্বাবলম্বী হতে পারবেন।

ভিওডি বাংলা-প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
মাদারীপুরে পিকআপ-ট্রাক সংঘর্ষে শিশুসহ আহত ৮
মাদারীপুরে পিকআপ-ট্রাক সংঘর্ষে শিশুসহ আহত ৮
কুমারখালীতে ওসির গাড়ি ভাঙচুর করলো এমপির ভাই
কুমারখালীতে ওসির গাড়ি ভাঙচুর করলো এমপির ভাই
ইরানের হামলার পর হাইফায় তেল শোধনাগারে আগুন
ইরানের হামলার পর হাইফায় তেল শোধনাগারে আগুন