আমিনুল হক:
জামায়াত প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত

ঢাকা-১৬ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী আমিনুল হক অভিযোগ করেছেন, জামায়াতে ইসলামী প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ভোটকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন অপকৌশল প্রয়োগ করছে একটি গোষ্ঠী, যা গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে মিরপুরে গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন আমিনুল হক। এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, জামায়াতের নেতাকর্মীরা ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংগ্রহ করছে, যা সরাসরি ভোট জালিয়াতির শামিল। শুধু তাই নয়, বিকাশসহ বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে টাকা দিয়ে ভোট কেনার মতো নৈতিকতা-বিবর্জিত কর্মকাণ্ডেও তারা জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আমিনুল হক বলেন, “নির্বাচন মানেই জনগণের মত প্রকাশের অধিকার। অথচ জামায়াত সেই অধিকার হরণ করতে চায়। তারা ভয়, প্রলোভন আর প্রতারণার পথ বেছে নিয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
তিনি জামায়াতকে ‘মিথ্যাচারী দল’ আখ্যা দিয়ে ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “যারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে, তাদের হাতে দেশ ও মানুষের নিরাপত্তা কখনোই নিশ্চিত হতে পারে না।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াত আমিরের নারীদের নিয়ে দেওয়া একটি ‘কথিত’ স্ট্যাটাসের প্রসঙ্গ টেনে আমিনুল হক বলেন, “যে দলের প্রধান প্রকাশ্যে নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করতে পারেন, সেই দলের কাছে নারী সমাজ ও দেশের সম্মান কখনোই নিরাপদ নয়।” তিনি বলেন, এ ধরনের মানসিকতা স্বাধীন বাংলাদেশ ও আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।
তিনি আরও বলেন, “যে দল একাত্তরে দেশের স্বাধীনতা চায়নি, তারা আজ মুখে মুখে বলছে ‘চলো দেশ গড়ি’। এটি হাস্যকর ছাড়া আর কিছু নয়। যারা আমাদের মা-বোনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না, তাদের হাতে দেশ হেফাজতের দায়িত্ব দেওয়া যায় না।”
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমেই জনগণ এসব অপশক্তির বিরুদ্ধে দাঁতভাঙা জবাব দেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক।
গণসংযোগকালে তিনি তার নির্বাচনি ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মিরপুর এলাকার সাধারণ মানুষ যেন অর্থের অভাবে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেটিই হবে তার প্রধান লক্ষ্য।
তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে প্রতিটি ঘরে ঘরে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়া যায়। পাশাপাশি প্রতিটি দুয়ারে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অর্থের অভাবে যেন কোনো মানুষের চিকিৎসা বন্ধ না হয়, সে বিষয়েও তিনি অঙ্গীকার করেন।
সকাল থেকেই মিরপুর-১২ এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ঘরে ঘরে গণসংযোগ করেন আমিনুল হক। এ সময় তিনি ভোটারদের হাতে নির্বাচনি ইশতেহার তুলে দেন এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
ভিওডি বাংলা/জা







