• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

গণ অভ্যুত্থানের পর প্রথম নির্বাচন নিয়ে কী বলছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:২৩ পি.এম.
ঢাকার সঙ্গীত সরকারি মিউজিক কলেজে ভোট দিতে লাইনে দাঁড়ানো ভোটাররা। ছবি: সংগৃহীত-ছবি: সংগৃহীত

গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রায় ১৭ মাস পরে বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্র সংস্কারের কিছু মৌলিক প্রশ্নে গণভোটও হচ্ছে। 

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি নির্ধারণের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে গণভোটও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই নির্বাচনের খবর গুরুত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো প্রচার করছে।

কাতারভিত্তিক আল জাজিরা জানিয়েছে, বাংলাদেশে প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ ভোটার ভোট দিতে যাচ্ছেন। ২০২৪ সালের আগস্টে দীর্ঘদিনের নেতা শেখ হাসিনার পতনের পর, এই নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফেরার একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নির্বাচনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। এই জোটে রয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), যা ২০২৪ সালের আন্দোলনে সক্রিয় তরুণ কর্মীদের দ্বারা গঠিত। নির্বাচনে ভোটারদের মূল প্রভাবিত বিষয় হলো-দুর্নীতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি ‘ন্যাশনাল চার্টার ২০২৫’ নামে একটি প্রস্তাবিত সংবিধানিক সনদ নিয়েও গণভোট হচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপ্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে তৈরি এই সনদ ভবিষ্যতের রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি নির্ধারণ করবে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর এটি দেশের প্রথম নির্বাচন। এছাড়া, কয়েক দশকের মধ্যে এটি প্রথমবারের মতো যেখানে দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক নেত্রী-শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া-নির্বাচনী মাঠে নেই।

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ায় দেশের প্রধান ইসলামপন্থি দল প্রথমবারের মতো সাধারণ নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উপস্থিত হয়েছে। ভোটাররা কেবল নতুন সরকার নির্বাচিত করবেন না, তারা ‘জুলাই সনদ’ নামে প্রস্তাবিত সংস্কারপ্যাকেজ বাস্তবায়নের বিষয়েও গণভোটে অংশ নেবেন। প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা পোস্টাল ভোটের মাধ্যমে ভোট দিচ্ছেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জেন-জি ভোটারদের অগ্রাধিকার হলো-চাকরি, সুশাসন এবং স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির ২০০৯ সালের পর প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে, শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় ১৭ কোটি মানুষের দেশে অস্থিরতার কারণে তৈরি পোশাকসহ বড় শিল্প খাতগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক হিসেবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা গুরুত্বপূর্ণ।

এএফপি জানিয়েছে, ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানের পর এটি প্রথম নির্বাচন এবং তারা ব্যাপক ভোটারের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করছে। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা আবুল ফজল মুহাম্মদ সানাউল্লাহ বলেন, অনেক তরুণ ভোটার শেখ হাসিনার শাসনের সময় কার্যত ভোট দেওয়ার স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত ছিলেন।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তরুণ ভোটারদের অনেকেই ২০২৪ সালের আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। তারা আশা করেন, আসন্ন নির্বাচন দেশের জন্য নতুন দিকনির্দেশনা বয়ে আনবে।

জার্মানিভিত্তিক ডয়চে ভেলে জানায়, ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের নির্বাচন সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্য যে কোনো নির্বাচনের মতো নয়। আওয়ামী লীগকে ভোটে অংশ নিতে না দেয়ায়, শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে জোটবদ্ধ একটি ইসলামপন্থি দল শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছে। স্বাধীনতার পর প্রথমবার ইসলামপন্থি শক্তিগুলো তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী নির্বাচনী উপস্থিতি দেখাতে প্রস্তুত।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু জানিয়েছে, বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের জন্য অর্ধেকের বেশি ভোটকেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের ৯০ শতাংশে সিসিটিভি নজরদারি থাকবে। ঢাকায় মোতায়েন থাকা পুলিশ সদস্যরা বডি ক্যামেরা ব্যবহার করবেন।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য ডন জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। নির্বাচনী বানানো উক্তি, বিকৃত ছবি এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করার চেষ্টা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এ ধরনের অপপ্রচার দোদুল্যমান বা অনিশ্চিত ভোটারদের মতামত প্রভাবিত করতে পারে।

ইউল্যাব-এর মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রধান ড. দীন এম সুমন রহমান বলেন, ‘ভুল তথ্য প্রচারের মূল উদ্দেশ্য হলো ভোটারের পছন্দকে প্রভাবিত করা। বিশেষ করে অনিশ্চিত ভোটারদের লক্ষ্য করে এসব অপপ্রচার করা হয়।’

বাংলাদেশে এই নির্বাচন শুধু নতুন সরকার গঠনের পরীক্ষা নয়, এটি দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোও নির্বাচনকে গুরুত্ব দিয়ে কাভার করছে এবং ভোটারের অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা লক্ষ্য করছে।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
সিরডাপের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পল্লী উন্নয়নে নতুন গতি আসবে : এলজিআরডি মন্ত্রী
সিরডাপের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পল্লী উন্নয়নে নতুন গতি আসবে : এলজিআরডি মন্ত্রী
ঢাকায় আসছে মার্কিন প্রতিনিধিদল
ঢাকায় আসছে মার্কিন প্রতিনিধিদল
সারাদেশে হাম ও উপসর্গে একদিনে ১৭ জনের মৃত্যু
সারাদেশে হাম ও উপসর্গে একদিনে ১৭ জনের মৃত্যু