ইরানে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অবসান ঘটার সময় এসেছে: রেজা পাহলভি

ইরানের ক্ষমতাচ্যুত শেষ শাহর নির্বাসিত ছেলে রেজা পাহলভি জানিয়েছেন, তিনি দেশটিতে একটি ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত। তিনি বলেছেন, “এখন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অবসান ঘটার সময় এসেছে।”
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) জার্মানির মিউনিখে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রায় দুই লাখ সমর্থকের সামনে এই বক্তব্য দেন রেজা পাহলভি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর মন্তব্যের প্রেক্ষিতে, যেখানে তিনি ইরানে ক্ষমতার পরিবর্তনকে “সবচেয়ে ভালো উপায়” বলে উল্লেখ করেছিলেন, পাহলভি তার অবস্থান স্পষ্ট করেন।
তিনি বলেন, “একটি ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের পথ প্রশস্ত করতে আমি এখানে এসেছি। আপনাদের জন্য রূপান্তরের নেতা হিসেবে আমি অঙ্গীকারবদ্ধ, যেন একদিন আমরা ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় দেশের ভাগ্য চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করতে পারি।”
সমাবেশে উপস্থিত সমর্থকেরা ‘জাভিদ শাহ’ স্লোগান দিয়েছেন। তারা সবুজ, সাদা ও লাল রঙের পতাকা উড়িয়েছেন, যার মধ্যে সিংহ ও সূর্যের ছবি প্রাচীন রাজতন্ত্রের প্রতীক।
৬২ বছর বয়সী ইরানি নাগরিক সাইদ সমাবেশে উপস্থিত থেকে এএফপিকে বলেন, “ইরানের শাসনব্যবস্থা একটি মৃত শাসনব্যবস্থা। এর অবসান হওয়া উচিত।”
পাহলভি দেশভিত্তিক ও প্রবাসী ইরানি নাগরিকদের প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্লোগান দেওয়ার জন্য শুক্রবার ও শনিবার রাত ৮টায় নিজ নিজ বাড়ি বা ছাদ থেকে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে জার্মানি ও অন্যান্য দেশে চলমান প্রতিবাদ একযোগে দৃশ্যমান হয়।
ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক আলোচনায় যুক্ত রয়েছে। গতকাল সুইজারল্যান্ড জানিয়েছে, ওমান সরকার আগামী সপ্তাহে জেনেভায় নতুন বৈঠকের আয়োজন করবে। এ অবস্থায় রেজা পাহলভি ইরানে নেতৃত্ব দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন।
পাহলভি ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের আগে ইরান ছেড়ে চলে যান এবং এরপর আর দেশে ফেরেননি। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। গত সপ্তাহে ওমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেছেন। মধ্যস্থতাকারী ওমান আগামী সপ্তাহে জেনেভায় নতুন দফা বৈঠক আয়োজন করবে, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
ভিওডি বাংলা/এমএস







