• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

কেন্দুয়ায় ষাঁড়ের লড়াইয়ের নামে জুয়া, এমপির  হুঁশিয়ারি

নেত্রকোনা প্রতিনিধি    ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:১৩ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় সংঘবদ্ধ একটি জুয়াড়ী চক্র ষাঁড়ের লড়াইয়ের নামে জুয়া খেলার আয়োজন করে আসছে।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরেও উপজেলার দলপা এলাকায় ষাঁড়ের লড়াইয়ের নামে জুয়া খেলার আয়োজন করে চক্রটি। লড়াইয়ের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

এদিকে বুধবার দুপুরে নেত্রকোনা-৩ (আটপাড়া-কেন্দুয়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী তাঁর নিজ নামীয় ফেসবুক আইডিতে মাদক, জুয়া ও ষাঁড়ের লড়াইয়ের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি ঘোষণা করে একটি পোস্ট করেন।

তার পোস্টটি নিম্নরূপ- "কেন্দুয়া-আটপাড়ায় মাদক, জুয়া ও ষাঁড়ের লড়াইয়ের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান কঠোর ও আপসহীন।অপরাধীর পরিচয় যেই হোক না কেন, আইন ও নৈতিকতার প্রশ্নে কোন ছাড় নেই। আইন ও নৈতিকতার ক্ষেত্রে আমরা সবাই একসাথে।" 

এমপি হিলালীর এমন হুঁশিয়ারিতে উপজেলার সচেতন লোকজনসহ সাধারণ মানুষ খুবই আনন্দিত। এ জন্য তারা এমপিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোরে রাত পোহানোর সাথে সাথে উপজেলার দলপা এলাকায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রকাশ্যে ষাঁড়ের লড়াইয়ের নামে জুয়া খেলার আয়োজন করে। এতে বিপুল জুয়াড়ি উপস্থিত ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। লড়াইকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্ট ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি স্থানীয় থানা পুলিশ ও প্রশাসনের নজরে আসে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দুয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এবং সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোতে ষাঁড়ের লড়াইয়ের আড়ালে জুয়া খেলা পরিচালিত হয়ে আসছে। কয়েক মাস আগে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে লড়াইয়ের জন্য আনা ষাঁড় গরু আটক করে নিলামে বিক্রি করলেও এ ধরনের আয়োজন পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বরং প্রভাবশালী একটি জুয়াড়ি চক্র নিয়মিতভাবে এসব আয়োজনের পেছনে সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার সচেতন মহলের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব ও স্থানীয় ক্ষমতাকেন্দ্রিক যোগসাজশের কারণেই এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করা যাচ্ছে না। শুধু ভ্রাম্যমাণ অভিযান নয়, প্রয়োজন শীর্ষ পর্যায়ের কঠোর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও সামাজিক প্রতিরোধ আন্দোলন। একই সঙ্গে প্রশাসনের অভ্যন্তরে যদি কোনো অসাধু ব্যক্তি সংশ্লিষ্টতা থাকে, তা চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার পরিদর্শক (ওসি-তদন্ত) মিহির রঞ্জন দেব গন্যমাধ্যমকে বলেন, দলপা ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত ষাঁড়ের লড়াই সম্পর্কে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভিওডি বাংলা-মো. হুমায়ুন কবির/জা 


  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ভূমি ও বনাঞ্চল ইস্যুতে কাজের অঙ্গীকার
ভূমি ও বনাঞ্চল ইস্যুতে কাজের অঙ্গীকার
রাজারহাটে আইনশৃঙ্খলা ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত
রাজারহাটে আইনশৃঙ্খলা ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত
রাজারহাটে রমজান উপলক্ষে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান
রাজারহাটে রমজান উপলক্ষে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান