• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

গরম পেঁয়াজু-বেগুনি আর জিলাপির ঘ্রাণে মুখরিত ইফতার বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৩৭ পি.এম.
মিরপুরে বিকালে জমেছে রমজান ইফতার বাজার-ছবি-ভিওডি বাংলা

বিকালের নরম রোদ শুরু হতেই রাজধানীর বিভিন্ন মহল্লা যেন এক উৎসবমুখর আবহে মগ্ন হয়ে ওঠে। সরু গলিগুলোতে অস্থায়ী ইফতার স্টলগুলো গড়ে উঠেছে, যেখানে কড়াইভর্তি গরম তেলে ভাজা সোনালি বেগুনি আর মুচমুচে পেঁয়াজুর ব্যস্ততা চোখে পড়ে। পাশেই চিনির শিরায় পাক খেতে খেতে লালচে জিলাপি ছড়িয়ে দিচ্ছে মিষ্টি আভা।

গরম তেলের ছ্যাঁকা আর চিনির শিরার ঘ্রাণ মিলে তৈরি করেছে এক অনন্য পরিবেশ, যা আকর্ষণ করছে শিশু থেকে বৃদ্ধ-সব বয়সী মানুষকে। অনেক স্থানেই বড় হাঁড়িতে ধীরে ধীরে ঘন হচ্ছে শাহী হালিম। বিক্রেতারা কাঠের বড় চামচ দিয়ে হালিম নাড়িয়ে নাড়িয়ে হাক দিচ্ছেন, “নিয়ে যান শাহী হালিম!” সাত ধরনের ডাল মিশিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আগুনে হালিম রান্না করা হচ্ছে, যা স্বাদে জমজমাট। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিকাল সাড়ে ৪টা থেকেই মিরপুরের বিভিন্ন ইফতার বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করেছে। অস্থায়ী স্টলগুলোতে বেগুনি, পেঁয়াজু, আলুর চপ, ডিমচপ, ছোলা, মুড়ি ও খেজুর সাজানো রয়েছে। জিলাপি বিক্রি হচ্ছে একদম গরম, ক্রেতারা পছন্দ অনুযায়ী কেজি বা হালি-উভয়ভাবেই কিনছেন।

বাজারে খাবারের দাম ও আকারেও রয়েছে বৈচিত্র্য। প্রতি পিস বেগুনি ও পেঁয়াজুর দাম ৫ থেকে ১০ টাকা, ডিমচপ ও আলুর চপ ১০ থেকে ১৫ টাকা, ডালপুরি ১৫ টাকা। জিলাপি প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হালিমের দামও আকার অনুযায়ী ভিন্ন; ছোট বাটি ৮০-১০০ টাকা, মাঝারি ১২০-২০০ টাকা এবং বড় বাটি ৩০০-৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শরবতের স্টলগুলোও সমানভাবে ভিড় উপভোগ করছে। লেবু-পুদিনা, রুহ আফজা, বেল, তোকমা ও মাল্টার শরবত মিলছে গ্লাস বা বোতলজাত আকারে। প্রতি গ্লাস শরবতের দাম ২০-৩০ টাকা, আর বোতলজাত ১৫০-২০০ টাকা পর্যন্ত।

ক্রেতারা জানান, বাসায় এসব বানানো বেশ সময়সাপেক্ষ এবং উপকরণও অনেক লাগে। এনামুল হাসান বলেন, “বিকালে অনেক সময় গ্যাসও থাকে না। তাই বাইরে থেকে গরম পেঁয়াজু ও হালিম নিয়ে আসছি। রোজা রেখে পরিবারের সবাই একটু মুখরোচক খাবার পছন্দ করে।”

রবিউল হুসাইন নামের অন্য এক ক্রেতা বলেন, “সবকিছু বাসায় বানানো সম্ভব হয় না, বিশেষ করে রেশমি জিলাপি। তাই সময় বাঁচাতে এবং স্বাদের কথা ভেবে এখানে এসে বেগুনি, জিলাপি ও ছোলা কিনছি।”

এদিকে, মাত্র কয়েক ঘণ্টার এই ইফতার বাজার অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জন্য সারা মাসের বাড়তি আয়ের প্রধান উৎস। তরুণরা এতে সাময়িকভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে ক্রেতাদের কথা ভেবে দাম সহনীয় রাখার চেষ্টা করছেন।

অস্থায়ী দোকানদার রফিকুল ইসলাম বলেন, “সকাল থেকে প্রস্তুতি নেই, বিকেলের দুই–তিন ঘণ্টা হল মূল বেচাকেনার সময়। নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে গেছে, কিন্তু ক্রেতাদের কথা ভেবে আমরা দাম সহনীয় রাখার চেষ্টা করছি।”

ইফতার বাজারে খাবারের এই বৈচিত্র্য শুধু খাওয়ার আনন্দই দেয় না, বরং মহল্লার সামাজিক মিলনস্থল হিসেবেও কাজ করছে। ছোট থেকে বড়-সব বয়সী মানুষ বিকালের এই মুহূর্তগুলোতে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন।

বাজারের এই উৎসবমুখরতা রমজানের আনন্দের এক অংশ হিসেবে প্রতিদিনই বাড়ছে। গরম পেঁয়াজু, সোনালী বেগুনি, মধুর জিলাপি আর সুগন্ধি হালিমের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে মিষ্টি শরবতের স্বাদ, যা ক্রেতাদের মনে একটা আনন্দদায়ক মুহূর্ত উপহার দিচ্ছে।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
চট্টগ্রাম বন্দরকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হবে
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী: চট্টগ্রাম বন্দরকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হবে
রমজানে সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধের নতুন সময় নির্ধারণ
রমজানে সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধের নতুন সময় নির্ধারণ
জ্বালানি উপদেষ্টার পিএস হলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পিএস
জ্বালানি উপদেষ্টার পিএস হলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পিএস