ভাষা দিবসে ফুল দেওয়া নিয়ে ডাকসুতে প্রকাশ্য কোন্দল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে ডাকসু নেতাদের একাংশের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
ডাকসুর শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সমন্বয়হীনতা এবং নির্দিষ্ট একটি পক্ষের অনুসারীদের প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন নারী সম্পাদক ও কার্যনির্বাহী সদস্য। মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা এবং কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা সরাসরি ভিপি সাদিক কায়েম ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে। একুশের প্রথম প্রহরে ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদ ও এজিএস মহিউদ্দিন খানের নেতৃত্বে ডাকসুর একটি অংশ শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে যান। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে ডাকসুর পূর্ণাঙ্গ কমিটির প্রতিনিধিদের বদলে ছাত্রশিবির-সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
এ কারণে ডাকসুর গুরুত্বপূর্ণ নারী সদস্য ফাতিমা তাসনিম জুমা, সর্বমিত্র চাকমা, হেমা চাকমা ও উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়াসহ কমিটির একটি বড় অংশ ওই আনুষ্ঠানিকতা থেকে বাদ পড়েন বলে অভিযোগ উঠেছে।
কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা ফেসবুকে এক পোস্টে জানান, কমিটির সদস্য হওয়া সত্ত্বেও তারা বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) লাইভ দেখে জানতে পেরেছেন যে ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ‘আমরা বিটিভির বদৌলতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’
অন্যদিকে ফাতিমা তাসনিম জুমা অভিযোগ করেন, শহীদ মিনারে যাওয়ার সময়সূচি নিয়ে গ্রুপে বারবার প্রশ্ন করলেও তাকে কোনো স্পষ্ট উত্তর দেওয়া হয়নি। বরং জানানো হয়েছিল, কেবল সিনেট সদস্যরা রাষ্ট্রীয় প্রটোকলে অংশ নেবেন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘সিলেক্টিভ পাস একটি দলের ইউনিয়ন পর্যায়ের কর্মীদেরও আছে, কিন্তু ডাকসুর সদস্যদের নেই কেন?’ জুমা আরও অভিযোগ করেন, প্রভাতফেরি সংক্রান্ত চিঠির তথ্য ভিপি-জিএস-এজিএস গোপন করেছেন এবং সাধারণ সদস্যদের অবহিত করা হয়নি।
তার মতে, আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সহজেই সমাধান করা যেত। তবে শীর্ষ নেতৃত্ব পুরো বিষয়টি শিক্ষার্থীদের আমানত হিসেবে না দেখে নিজেদের মতো পরিচালনা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। শিক্ষার্থীরা কাজের জবাব চাইলে সম্পাদক হিসেবে তাদের উত্তর দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলেও জানান জুমা।
ভিওডি বাংলা/ আ







