• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

ঘন ঘন ভূমিকম্প, বড় দুর্যোগের পূর্বাভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৫৭ পি.এম.
ভূমিকম্প। ছবি: সংগৃহীত

চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের শুরু থেকেই দেশজুড়ে ধারাবাহিকভাবে ভূমিকম্প অনুভূত হচ্ছে। সর্বশেষ গত বুধবার রাতে ৫.১ মাত্রার একটি মাঝারি ভূমিকম্পে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা কেঁপে ওঠে। এ নিয়ে চলতি মাসে দেশে আটবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বুধবার রাতে মিয়ানমারে সৃষ্ট ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১২৯ কিলোমিটার গভীরে। যদিও এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে ঘন ঘন এই ভূমিকম্প বড় কোনো দুর্যোগের পূর্বাভাস কি না, তা নিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

গত ১ ফেব্রুয়ারি সিলেটে ৩ মাত্রার মৃদু কম্পন হয়। এরপর ৩ ফেব্রুয়ারি একই দিনে তিনবার ভূকম্পন অনুভূত হয়। এর মধ্যে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ৪.১ মাত্রা এবং মিয়ানমারে ৫.৯ ও ৫.২ মাত্রার দুটি কম্পন ছিল। তারপর ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি সিলেটে আরও দু্ইবার এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের ছাতকে ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। সব মিলিয়ে ২৬ দিনে আটবার কেঁপেছে দেশ।

গত বছরের নভেম্বরে ৫.৭ মাত্রার এক ভূমিকম্পে দেশে ১০ জন নিহত ও শতাধিক মানুষ আহত হয়েছিলেন।

ভূতত্ত্ববিদরা ঘন ঘন এই কম্পনকে বড় ধরনের দুর্যোগের পূর্বলক্ষণ হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন, বাংলাদেশের আশপাশের অঞ্চল এবং দেশের ভেতরে ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের সংখ্যা বাড়ছে। ভূতাত্ত্বিকভাবে এটি বড় ধরনের ভূমিকম্পের পূর্ব লক্ষণ হতে পারে। বাংলাদেশ ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় ভৌগোলিকভাবেই অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে রয়েছে। 

ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার গণমাধ্যমকে বলেন, ঘন ঘন কম্পনগুলো বড় ভূমিকম্পের পূর্বলক্ষণ হতে পারে। ভূত্বকের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে শক্তি জমা হতে থাকলে তা ছোট ছোট কম্পনের মাধ্যমে আংশিক মুক্ত হয়। ছোট কম্পনগুলো নির্দেশ করছে যে ভূ-অভ্যন্তরে বড় ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে বড় কোনো শক্তি মুক্ত না হলে তা মহাবিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রস্তুতি এখনও উদ্ধার তৎপরতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। পাশাপাশি ভূমিকম্পে হতাহাতে ঘটনা যাতে না ঘটে সেই ব্যবস্থাও গ্রহণ করতে হবে। অবকাঠামোগত ঝুঁকি কমাতে বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এছাড়া সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমাতে নাগরিক সচেতনতা বাড়ানো, নিয়মিত মহড়া এবং ভূমিকম্প-সহনশীল স্থাপনা নির্মাণের কোনো বিকল্প নেই বলেও মনে করেন তিনি।

ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
সময় টিভির উপদেষ্টা হলেন মাহফুজ কবির মুক্তা
সময় টিভির উপদেষ্টা হলেন মাহফুজ কবির মুক্তা
যমুনা সরকারি বাসভবনে উঠছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
যমুনা সরকারি বাসভবনে উঠছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
আমরা সড়ক খাতে জবাবদিহিতা আনার চেষ্টা করছি: সেতুমন্ত্রী
আমরা সড়ক খাতে জবাবদিহিতা আনার চেষ্টা করছি: সেতুমন্ত্রী