বর্জ্য সংগ্রহে ১০০ টাকার বেশি নিলে ঠিকাদারের অনুমোদন বাতিল: আবদুস সালাম

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর (বিএনপি) চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বলেছেন,বাড়িঘর ও দোকানের বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে হবে, যেখান থেকে সিটি করপোরেশন তা সংগ্রহ করবে। কোনো বাসা থেকে বর্জ্য সংগ্রহের জন্য ১০০ টাকার বেশি নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের অনুমোদন বাতিল করা হবে।
এসময় চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও মাদকসহ অপরাধের বিরুদ্ধে কোনো আপস করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর লালবাগ থানার ২৪ নং ওয়ার্ড বিএনপি'র উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আবদুস সালাম বলেন, জনগণ যেভাবে হামিদুর রহমান হামিদকে নির্বাচিত করে সংসদে পাঠিয়েছেন, আগামী মেয়র নির্বাচনে তাকেও নির্বাচিত করা হলে দুইজন একসঙ্গে কাজ করে এলাকার সমস্যা সমাধান করবেন। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করা হবে।
পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে জনগণের সচেতনতা অপরিহার্য। যেখানে-সেখানে ময়লা ফেললে নগর ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হবে এবং ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন সমস্যা বাড়বে। তাই প্রতিটি ওয়ার্ডে মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।
ঐতিহ্য ও পরিবেশ সংরক্ষণের উদ্যোগ:
পুরান ঢাকার ঐতিহ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এ এলাকার খাবার সংস্কৃতি, পুরোনো স্থাপনা ও ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষণ করতে হবে। নদীতে বর্জ্য ও শিল্পকারখানার বর্জ্য ফেলা বন্ধ করে বুড়িগঙ্গা নদী পরিষ্কার করে পানির ব্যবহারযোগ্যতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান:
চাঁদাবাজি, রাহাজানি, ছিনতাই ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এসব অপরাধে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না, সে যে দলেরই হোক না কেন। যারা এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের সংশোধনের আহ্বান জানান তিনি, অন্যথায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন।
কর্মসংস্থান ও জনসেবার প্রতিশ্রুতি:
তিনি বলেন, এলাকার তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, চাকরির সুযোগ এবং দলীয় কর্মীদের দেখভালের দায়িত্ব তিনি ও হামিদুর রহমান হামিদের ওপর থাকবে। জনগণের সেবাই তাদের প্রধান লক্ষ্য ।
ফুটপাত ও সড়কে শৃঙ্খলা আনার পরিকল্পনা:
তিনি বলেন, খেলার মাঠ খেলাধুলার জন্য, ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের জন্য এবং সড়ক যান চলাচলের জন্য ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হবে। হকারদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা হবে এবং ঈদের পর থেকে সবাইকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনা হবে।
কর পরিশোধে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান:
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের কর বকেয়া রয়েছে। দ্রুত এসব কর পরিশোধ করলে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা সহজ হবে। সিটি করপোরেশন পরিচালনার জন্য রাজস্ব আয়ের গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।
আবদুস সালাম বলেন, প্রতিদিনের বর্জ্য প্রতিদিন অপসারণ করা হবে এবং কোথাও সড়কবাতি নষ্ট থাকলে তা দ্রুত ঠিক করা হবে। দায়িত্বে অবহেলা করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।
স্থানীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এটি শক্তিশালী হলে ছোটখাটো বিরোধ স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে এবং পুলিশের ওপর নির্ভরতা কমবে।
পর্যটন উন্নয়নের পরিকল্পনা:
তিনি বলেন, পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংরক্ষণ ও উন্নয়নের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করা হবে। বিশেষ করে লালবাগ কেল্লাসহ ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোকে বিশ্বমানের পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পুরান ঢাকার ঐতিহ্য ফিরিয়ে এনে একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য তিনি জনগণের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
ইফতার ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের বিএনপি নেতা কর্মীরা।
ভিওডি বাংলা/সবুজ/আ







