• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

ঋণের বোঝায় দেউলিয়া সেই ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:৫৮ এ.এম.
ঔপনিবেশিক ইতিহাসের প্রতীক ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’-ছবি: সংগৃহীত

ঔপনিবেশিক শাসনের ইতিহাসে একসময়ের প্রতাপশালী নাম ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’ আবারও আলোচনায়-তবে এবার ব্যবসায়িক সাফল্যের জন্য নয়, বরং দেউলিয়া ঘোষণার কারণে। ভারতবর্ষে প্রায় দুই শতকের ব্রিটিশ শাসনের সূচনা করা এই কোম্পানির আধুনিক সংস্করণ চরম আর্থিক সংকটে পড়ে কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘সানডে টাইমস’-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কোম্পানিটির বর্তমান মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো দেউলিয়া আদালতের অধীনে চলে গেছে। ফলে এর সম্পদ বিক্রির আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ঐতিহাসিকভাবে ১৬০০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানি উপমহাদেশে ব্রিটিশ বাণিজ্য ও শাসনের ভিত্তি স্থাপন করে। ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ সরকার সরাসরি শাসনভার গ্রহণ করলে কোম্পানিটির রাজনৈতিক প্রভাবের অবসান ঘটে। এরপর দীর্ঘ সময় ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকলেও ২০১০ সালে নতুনভাবে ব্র্যান্ড হিসেবে পুনর্জন্ম ঘটে।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তা সঞ্জীব মেহতা ঐতিহাসিক এই নামটি কিনে নিয়ে লাক্সারি পণ্যসামগ্রীর ব্যবসা শুরু করেন। লন্ডনের অভিজাত এলাকা মেফেয়ারে-এ প্রায় ২,০০০ বর্গফুটের একটি স্টোর চালু করা হয়। সেখানে উচ্চমূল্যের চা, কফি, মসলা, চকলেট ও প্রিমিয়াম খাদ্যপণ্য বিক্রি হতো। পরিকল্পনা ছিল-ঐতিহাসিক ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে বিশ্ববাজারে একটি বিলাসবহুল ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা করা।

কিন্তু বাজার প্রতিযোগিতা, উচ্চ পরিচালন ব্যয় এবং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে ব্যবসাটি টেকেনি। নথিপত্র অনুযায়ী, প্যারেন্ট কোম্পানি ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গ্রুপ’-এর কাছে মোট বকেয়া ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ লাখ পাউন্ড। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা কয়েক কোটি টাকার সমান। এছাড়া কর বাবদ প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার পাউন্ড এবং কর্মীদের বেতনসহ অন্যান্য পাওনা হিসেবে আরও প্রায় ১ লাখ ৬৩ হাজার পাউন্ড বকেয়া রয়েছে।

ঋণের দায়ে জর্জরিত হয়ে কোম্পানির অন্যান্য অঙ্গপ্রতিষ্ঠানও কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছে। মেফেয়ারের প্রধান স্টোরটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্র্যান্ডটির শেষ দৃশ্যমান উপস্থিতিও হারিয়ে গেছে। বর্তমানে দেউলিয়া আদালতের তত্ত্বাবধানে সম্পদ নিলামের মাধ্যমে পাওনাদারদের অর্থ পরিশোধের প্রস্তুতি চলছে।

একসময় সঞ্জীব মেহতা  মন্তব্য করেছিলেন-যে কোম্পানি একসময় ভারত শাসন করেছে, এখন সেটির মালিক একজন ভারতীয়। ইতিহাসের সেই প্রতীকী বক্তব্য আজ বাস্তবতার কঠিন পরীক্ষায় ব্যর্থ। আধুনিক ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে কেবল ঐতিহাসিক নামের জৌলুস টিকিয়ে রাখা যায় না-এমন বাস্তবতাই যেন আবারও প্রমাণ হলো ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’র পরিণতিতে।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
প্রথমবারের মতো ভ্যাটসহ সোনার দাম নির্ধারণ, ভরিতে কমলো ৯০১৩ টাকা
প্রথমবারের মতো ভ্যাটসহ সোনার দাম নির্ধারণ, ভরিতে কমলো ৯০১৩ টাকা
প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী: ওয়েব
প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী: ওয়েব
তামাকপণ্য সহজলভ্য হলে রাজস্ব আয় কমবে: আহছানিয়া মিশন
তামাকপণ্য সহজলভ্য হলে রাজস্ব আয় কমবে: আহছানিয়া মিশন