আইআরজিসির নতুন প্রধান আহমদ ভাহিদি

ইরান বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর নতুন কমান্ডার হিসেবে আহমদ ভাহিদিকে নিয়োগ করেছে দেশটি। ভাহিদি আগে ইরানের প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।
রোববার (১ মার্চ) রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়োগের ঘোষণা করা হয়েছে।
ভাহিদি এমন এক সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করছেন যখন গত শনিবার এক হামলায় আইআরজিসির কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সদ্য সাবেক প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর। ২০২২ সালে দেশব্যাপী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যবহার করা জোরপূর্বক শক্তির কারণে ভাহিদির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।
ইরানের নতুন কমান্ডারের নিয়োগ এবং হামলার তথ্য আন্তর্জাতিকভাবে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ইসরায়েলি বিমান বাহিনী দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ অভিযানে মাত্র একদিনে ইরানের ওপর ১,২০০টির বেশি বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা।
হামলার সময় ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে অন্তত ১৪৮ জন নিহত এবং বহুজন আহত হয়েছেন। সূত্রগুলো জানাচ্ছে, মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) কয়েক মাস ধরে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির অবস্থান ও চলাফেরা নজরদারিতে রেখেছিল।
সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকালে তেহরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ কমপ্লেক্সে শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, যেখানে খামেনিও উপস্থিত থাকবেন। এ তথ্য পাওয়ার পর হামলার সময় পরিবর্তন করে ভোরবেলা আঘাত হানার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান তেহরান সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে নিক্ষেপ করে। ওই কমপ্লেক্সে প্রেসিডেন্ট, সর্বোচ্চ নেতা ও জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কার্যালয় রয়েছে।
সূত্রগুলো জানাচ্ছে, সিআইএ-এর সরবরাহকৃত তথ্য অত্যন্ত নির্ভুল ছিল এবং এর ভিত্তিতেই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। গত বছরের সংঘাতের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের চলাফেরার বিস্তারিত তথ্য ছিল, যা এবার কাজে লাগানো হয়েছে।
হোয়াইট হাউস ও সিআইএ এই ঘটনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা নিশ্চিত করেছে, হামলায় কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আইআরজিসির নতুন প্রধান আহমদ ভাহিদি এখন দেশের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাবেন। হামলার পরবর্তী সময়ে ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা কড়া পর্যবেক্ষণে রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও ঘটনাটি অত্যন্ত মনোযোগের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে।
ভিওডি বাংলা/জা







