তুরস্কে কিডনি চিকিৎসার নামে ভয়ংকর প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৫

টার্কিশ একটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট হুবহু নকল করে বাংলাদেশ থেকে তুরস্কে রোগী পাঠিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একটি প্রতারক চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৪।
কিডনি প্রতিস্থাপনসহ উন্নত চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে তুরস্কে নেওয়ার পর রোগীদের জিম্মি করে এই অর্থ আদায় করত চক্রটি।
১২ মার্চ বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় র্যাব ৪ ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর পাইকপাড়া মিরপুর ১ কার্যালয়ে এ র্যাব-৪ সিপিসি-১ কোম্পানি কমান্ডার কে. এন. রায় নিয়তি এক প্রেস ব্রিফিং এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এসময় তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি নীরব নজরুল লিখন নামের এক ভুক্তভোগীর করা মামলার ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এই চক্রের মূল হোতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- দিনাজপুরের নুরুজ্জামান রাজু (৩৬), মোহাম্মদ তরিকুল (৩০) ও সালমান ফারসি (৩৫), বরগুনার মাসুম বিল্লাহ (৪৩) এবং টাঙ্গাইলের ওয়ালিদ মিয়া (২৬)।
চক্রটি মানুষের বিশ্বাস অর্জনের জন্য তুরস্কের ‘টার্কিশডক’ নামের একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের আদলে ‘টার্কিশ ডক বিডি’ নামে একটি ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে। এরপর তারা নিজেদের তুরস্কের ওকান হাসপাতালের দেশীয় এজেন্ট হিসেবে পরিচয় দিয়ে রোগী সংগ্রহ করত।
নিয়তি আরো বলেন, ব্যবসায়ী লিখনের মায়ের জরুরি ভিত্তিতে কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন ছিল। পরিচিত একজনের মাধ্যমে এই চক্রের খোঁজ পান তিনি। চক্রের সদস্যরা তাকে জানায়, ২৩ হাজার ডলারের (প্রায় ৩০ লাখ টাকা) বিনিময়ে তুরস্কে তারা কিডনি প্রতিস্থাপনের সব ব্যবস্থা করে দেবে। তাদের কথায় বিশ্বাস করে চুক্তিমতো দেশেই কয়েক ধাপে ৭ লাখ টাকা বুঝিয়ে দেন লিখন।
গত ফেব্রুয়ারিতে লিখন তার মাকে নিয়ে তুরস্কে যাওয়ার পর সামনে আসতে থাকে চক্রটির আসল চেহারা । সেখানে এক টার্কিশ ব্যক্তি তাদের রিসিভ করে হাসপাতালে ভর্তি করান। এরপর রোগীর অবস্থা খারাপ হওয়ার অজুহাত দিয়ে জরুরি ডায়ালিসিস এবং কাগজপত্র ঠিক করার কথা বলে নির্ধারিত ২৩ হাজার ডলারের বাইরেও আরও ১৫ হাজার ডলার দিতে বাধ্য করা হয় তাদের।
সব মিলিয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর চক্রটি লিখনকে জানায়- তার মায়ের কিডনি প্রতিস্থাপন সম্ভব নয়। প্রতিবাদ করলে সেদেশের পুলিশের মাধ্যমে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানোর ভয় দেখিয়ে তাদের দেশে ফিরে আসতে বাধ্য করা হয়। দেশে ফিরে টাকা ফেরত চাইলে চক্রটি লিখনকে উল্টো হুমকি-ধমকি দিতে থাকে। উপায় না দেখে তিনি ডিএমপির শ্যামপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
র্যাব-৪ এর প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। শুধু লিখনই নন, কিডনি প্রতিস্থাপন ও আইভিএফ-এর মতো চিকিৎসার নাম করে আরও অনেককে তুরস্কে পাঠিয়ে জিম্মি করেছে চক্রটি। এই চক্রের ফাঁদে পড়ে তুরস্কে গিয়ে প্রতারণার শিকার হওয়া কয়েকজন বাংলাদেশি বর্তমানে সে দেশে কারাবন্দীও আছেন বলে র্যাব জানতে পেরেছে।
গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
ভিওডি বাংলা/এমএস







