মহাসড়কে যাত্রীর চাপ
বাস-ট্রেনে ঠাঁই না পেয়ে ট্রাক-পিকআপে ঈদযাত্রা

ছুটি পেয়ে শ্রমিকেরা ছুটছেন বাড়ির পথে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বাসে উঠতে না পেরে অনেকেই ট্রাক-পিকআপে চড়ে বাড়ি যাচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী, স্টেশন রোড, গাজীপুরা, বোর্ডবাজার, ভোগড়া বাইপাস পেয়ারা বাগান, কোনাবাড়ি, মৌচাক, সফিপুর, শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তা, গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি, ১ নম্বর সিঅ্যান্ডবি, ২ নম্বর সিঅ্যান্ডবি, নতুন বাজার, এমসি বাজার, নয়নপুর, রঙ্গিলাবাজার ও জৈনাবাজারসহ কয়েকটি এলাকার মহাসড়ক ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।
মহাসড়কের পাশে প্রতিটি পয়েন্টে যাত্রীদের ব্যাপক চাপ। বাসের জন্য সড়কের পাশে অবস্থান করছেন তারা। ঢাকা থেকে উত্তর দিকে টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোণা, শেরপুর, কিশোরগঞ্জগামী যাত্রীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
এ ছাড়া ঢাকা অভিমুখী যাত্রীর সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও ঢাকার দিক থেকে উত্তরাঞ্চলের বেশির ভাগ গণপরিবহন রয়েছে যাত্রীতে পরিপূর্ণ। কোনো আসন খালি না থাকলেও মহাসড়কের পাশে অবস্থান করা যাত্রীদের অনেকেই ভিড় ঠেলে সেগুলোতে উঠে পড়ছেন। উঠতে না পেরে কেউ কেউ পিকআপে চড়ে বসেছেন। বাসস্ট্যান্ড ছাড়া অন্যত্র যাত্রী তোলার কারণে মাঝেমধ্যে যানবাহনের লম্বা সারি সৃষ্টি হচ্ছে।
যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেশির ভাগ গাজীপুরের বিভিন্ন কল-কারখানায় চাকরি করেন। অনেকেই স্ত্রী-সন্তানসহ এসব এলাকায় অস্থায়ীভাবে বসবাস করেন। ঈদ এলেই তারা পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা করেন। প্রতিবারই যাত্রার ক্ষেত্রে বিড়ম্বনা থাকে।
পিকআপের যাত্রী পোশাক শ্রমিক নাসিমা আক্তার বলেন, দুই সহকর্মীর সঙ্গে জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলায় নিজ গ্রামে ঈদ করতে যাচ্ছেন তিনি। বাসের জন্য অপেক্ষা করে অবশেষে একটি পিকআপে জনপ্রতি ৩০০ টাকা ভাড়ায় চড়েছেন।
গাজীপুর মহানগরের সালনা এলাকায় ট্রাকের পেছনে বসে যাত্রা করেছেন জহিরুল ইসলাম। যানজটে আটকে পড়লে সড়কে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, কষ্ট হলেও বাড়ি ফিরতে পারছেন, এতেই আনন্দ। বাসে সিট নেই, তাই বাধ্য হয়ে তিনি ট্রাকে ওঠেছেন।
মহাসড়কের পরিস্থিতি নিয়ে মাওনা হাইওয়ে থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান বলেন, মহাসড়কের মাস্টারবাড়ি, ওয়াপদা, নয়নপুর, এমসি বাজার ও জৈনাবাজার এলাকায় হাইওয়ে পুলিশ সার্বক্ষণিক অবস্থান করে সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।
এ ছাড়া তিনটি মোবাইল টিম মহাসড়কে টহল দিচ্ছে। কেউ ভাড়া বেশি নিলে বা যেকোনো পরিস্থিতিতে হাইওয়ে পুলিশের সহযোগিতা নিতে পারবেন বলে জানান ওসি।
ভিওডি বাংলা/আরআর







