অধ্যাদেশ বাতিল ও স্থগিতের প্রতিবাদে নাগরিক সংলাপ

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে প্রণীত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু অধ্যাদেশ বাতিল এবং স্থগিতের সুপারিশের প্রতিবাদে নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ান বাজারস্থ বিডিবিএল ভবনের ৮ম তলায় সংলাপের আয়োজন করেন নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ‘ভয়েস ফর রিফর্ম’।
এসময় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল ও গুম প্রতিরোধ/ প্রতিকার অধ্যাদেশ স্থগিত: সুশাসন ও মানবাধিকারের অগ্রযাত্রার প্রতি হুমকি শীর্ষক এই সংলাপে নাগরিক সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।
ভয়েস ফর রিফর্ম-এর মতে, অন্তর্বর্তীকালীন সংসদের প্রণয়ন করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার জন্য গঠিত সংসদীয় কমিটি সম্প্রতি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল বা স্থগিতের সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ-২০২৫’ এবং ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ-২০২৫’।
আরো বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতেই এই অধ্যাদেশগুলো প্রণয়ন করা হয়েছিল। এছাড়া বহুল আলোচিত ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ-২০২৫’ এখনই পাশ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অনেক ত্যাগের বিনিময়ে দেশে সুশাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, এই অধ্যাদেশগুলো বাতিল বা স্থগিত হলে সেই অগ্রযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে।
বিশিষ্ট আলোকচিত্রী ও মানবাধিকার কর্মী শহিদুল আলমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)–এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, রাজনীতিবিদ তাসনিম জারা, আইনজীবী মানজুর আল মতিন, সাংবাদিক আশরাফ কায়সার, মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু, রাষ্ট্র সংস্কার বিষয়ক গবেষক সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন, মানবাধিকারকর্মী রুবি আমাতুল্লাহ প্রমূখ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করছেন ভয়েস ফর রিফর্ম-এর সহ-সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর।
মানবাধিকারকর্মী রুবি আমাতুল্লাহ তিনি বলেন, আমরা জাতীর জীবনে এক ক্লান্তি লগনে বা ঐতিহাসিক সময় পার করছি, আমরা এসময়টি নিয়ে ছিনি মিনি খেলছি আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না।
মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু তিনি বলেন, আমাদের যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিলো বিচার বিভাগের কারণে কোটা আন্দোলন রায় থেকে, রায়টি হয়েছিল সরকারের বিপক্ষে তার পর ও সরকার বিচলিত হয়নি৷ আমরা বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ আলাদা করে দেখতে চাই। ঘুম কমিশন যে কাজ গুলো করেছে তা আমরা ভুলে যাচ্ছি, বিএনপি ও এগুলো বাতিল করতে যাচ্ছে।
বিএনপি সংস্কারের পক্ষে না, তারা সবসময় বলছে পার্লামেন্ট যদি চায় তাহলে সংস্কার হবে।
এখন বিএনপি বলছে তারা গুম অধ্যাদেশ আরো যাচাই বাচাই করবে, আমরা যে নতুন রাজনিতি দেখতে চেয়েছিলাম তা কোথায়। জামায়াত বলেছিল বিএনপিকে আমারা বিশ্বাস করি না।
আমরা যে একটি তত্বাবধাক সরকার দেখেছি কিছু দিন পরে এদেশের মানুষ বলবে সেই ঠিক ছিলো কারন সেখানে আমাদের স্বাধীনতা ছিলো। গনঅভ্যুত্থান করে সরকারকে পালাতে দল লাগে না, সংসদে যেতে দল লাগে, ভোট করতে দল লাগে। সরকার আবার পুরানো পথে হাটছে।
আইন ও সংবিধান বিশ্লেষক খালেদ মহিউদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, এ সরকার ক্ষমতায় যাও পরে সরকারের কাছে আশা ছিলো বিচার বিভাগকে স্বাধীন করবেন, কিন্তু তা করছে না।
সংলাপে মানবাধিকার কর্মী, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ এবং জুলাই-বিপ্লবের যোদ্ধারা অংশ নিয়ে নিজেদের উদ্বেগ ও মতামত তুলে ধরেন।
ভিওডি বাংলা/এসআর







