বেলজিয়াম ও ইইউতে ভারতের রাষ্ট্রদূত হলেন প্রণয় ভার্মা

ঢাকায় ভারতের হাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা প্রণয় ভার্মাকে এবার বেলজিয়াম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানায়, অভিজ্ঞ এই পেশাদার কূটনীতিক শিগগিরই নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রণয় ভার্মা ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশে ভারতের মিশনের দায়িত্বে ছিলেন। সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যমে তাকে ব্রাসেলসে পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা চলছিল। বিশেষ করে গত ২৭ জানুয়ারি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির পর ইইউ অঞ্চলের গুরুত্ব ভারতের কূটনৈতিক দৃষ্টিতে আরও বেড়েছে।
এর আগে প্রণয় ভার্মা ভিয়েতনামে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৪ ব্যাচের ভারতীয় পররাষ্ট্র সার্ভিসের এই কর্মকর্তা হংকং, স্যান ফ্রান্সিসকো, বেইজিং, কাঠমান্ডু এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে বিভিন্ন কূটনৈতিক পদে কাজ করেছেন।
২০১৯ সালের জুলাইয়ে হ্যানয় দূতাবাসে রাষ্ট্রদূত হওয়ার আগে তিনি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব-এশিয়া বিভাগের যুগ্ম সচিব ছিলেন। এরও আগে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি অ্যাটমিক এনার্জি বিভাগে পরমাণু কূটনীতি সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করেন।
যন্ত্রকৌশলে স্নাতক প্রণয় ভার্মা ফরেন সার্ভিসে যোগ দেওয়ার আগে টাটা স্টিলে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মিডলবারি ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ থেকে চীনা ভাষায় স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
এদিকে ঢাকায় তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিহারের সদ্য সাবেক রাজ্যপাল আরিফ মোহাম্মদ খানের নাম আলোচনায় রয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, তিনি পেশাদার কূটনীতিক না হলেও প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের দায়িত্বে তাকে নিয়োগ দেওয়ার সম্ভাবনা আছে।
টাইমসনাউ জানিয়েছে, ভারতে রাষ্ট্রদূত বা হাই কমিশনার পদে শুধু পেশাদার কূটনীতিক নিয়োগের বাধ্যবাধকতা নেই। অতীতেও গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোতে জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক ব্যক্তিদের দূত হিসেবে পাঠানোর নজির রয়েছে।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ঢাকার পরবর্তী হাই কমিশনার পেশাদার কূটনীতিক হবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। প্রণয় ভার্মার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আরিফ মোহাম্মদ খানের পাশাপাশি বাংলা ভাষাভাষী ও বাংলাদেশ-সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত একজন ব্যক্তির নামও আলোচনায় রয়েছে। ফলে ঢাকায় নতুন হাই কমিশনার হিসেবে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নিয়োগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ভিওডি বাংলা/এমএস







