• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

মজুত থাকলেও সংকট দেখিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার বেশি দামে বিক্রি

মাদারীপুর প্রতিনিধি    ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৩ পি.এম.
মাদারীপুরের একটি গোডাউনে গ্যাস সিলিন্ডার মজুতের দৃশ্য: ছবি: সংগৃহীত

মাদারীপুরে পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও বাজারে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে। স্থানীয় হাটবাজার ও শহরের বিভিন্ন এলাকায় ১২ কেজি ওজনের সিলিন্ডারে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত। অভিযোগ উঠেছে, গুদামে পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সরেজমিনে মাদারীপুর শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বড় একটি গ্যাস সিলিন্ডার গুদামে শত শত বোতল ভর্তি সিলিন্ডার মজুত রয়েছে। সৈয়দ মনির নামে এক ডিলারের এই গুদামে ট্রাক ও ভ্যানযোগে নিয়মিত নতুন সিলিন্ডারও আনা হচ্ছে। একই এলাকায় মুফতি ফায়েকুজ্জামানের গুদামেও বিপুল পরিমাণ সিলিন্ডার সংরক্ষিত আছে। স্থানীয়দের দাবি, মজুত থাকা সত্ত্বেও বাজারে তৈরি করা হচ্ছে কৃত্রিম সংকট, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা দামে।

বর্তমানে বাজারে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের সরকার নির্ধারিত দাম ১৭২৮ টাকা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে ক্রেতাদের দিতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। কোথাও কোথাও প্রতি সিলিন্ডারে ২০০ টাকা বেশি, আবার কিছু জায়গায় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বোতলের গায়ে সরকারি মূল্য লেখা না থাকায় এই অনিয়ম আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন ভোক্তারা।

মাদারীপুর শহরের লেকের দক্ষিণপাড় এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী খোকন তালুকদার জানান, তিনি মাসে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০টি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করেন। কিন্তু প্রতিটি সিলিন্ডার কিনতে গিয়ে তাকে নিয়মিত বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। তিনি বলেন, নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রতি সিলিন্ডারে প্রায় ২০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে, যা তার মতো ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে।

শহর ও গ্রামের প্রায় সব শ্রেণির ব্যবহারকারীরাই একই সমস্যার কথা বলছেন। বাসাবাড়ি, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবহৃত এলপিজি সিলিন্ডারের দাম হঠাৎ করে বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। অনেকেই মনে করেন, বাজারে পর্যাপ্ত সিলিন্ডার মজুত থাকলেও একটি অসাধু চক্র সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।

ডিলারদের পক্ষ থেকে অবশ্য ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। তাদের দাবি, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি, পাইকারি দামে ওঠানামা এবং সরবরাহ কম থাকায় খুচরা বাজারে দাম কিছুটা বেশি রাখতে হচ্ছে। তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, এসব কারণ দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত দাম আদায় করা হচ্ছে, যার কোনো কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই।

মাদারীপুর জেলায় প্রায় অর্ধশতাধিক ডিলারের মাধ্যমে পাইকারি পর্যায়ে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হয়। খুচরা দোকানের সংখ্যা শতাধিক। এত বিপুল সংখ্যক বিক্রয় কেন্দ্র থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার পৌঁছায় না বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে অভিযান চালানো হলেও তা স্থায়ী সমাধান আনতে পারছে না বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

শহরের শকুনি এলাকার বাসিন্দা মো. জাকির হোসেন বলেন, শহরের প্রায় সব বাসাবাড়িতেই রান্নার জন্য এলপিজি ব্যবহার করা হয়। কিন্তু নিয়মিতভাবে দাম বাড়ানো হচ্ছে। তার অভিযোগ, একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এই বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। তিনি প্রশাসনের আরও কঠোর ভূমিকা চান।

অন্যদিকে হোটেল ব্যবসায়ী খোকন তালুকদারও একই অভিযোগ করে বলেন, গ্যাস সিলিন্ডারের দাম নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না। এতে ছোট ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দাম নিয়ন্ত্রণে না এলে অনেক খাবারের দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

জেলার সবচেয়ে বড় ডিলার সৈয়দ মনির দাবি করেন, চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সাপ্লাই পাওয়া যাচ্ছে না। তার ভাষায়, পাইকারি বাজারে উচ্চ দামে কিনে আনতে হয়, পাশাপাশি পরিবহন ও অন্যান্য খরচও বেড়েছে। এসব কারণে খুচরা পর্যায়ে কিছুটা বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আল নোমান জানান, গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রিতে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ালে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এবং ইতিপূর্বেও অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

ভিওডি বাংলা/জা
 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
সিলেট সীমান্তে খাসিয়াদের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত
সিলেট সীমান্তে খাসিয়াদের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত
সুনামগঞ্জে ২৪১ বোতল বিদেশি মদসহ যুবক গ্রেপ্তার
সুনামগঞ্জে ২৪১ বোতল বিদেশি মদসহ যুবক গ্রেপ্তার
সূর্যমুখীর সোনালি হাসিতে বদলে যাচ্ছে রাঙ্গাবালী
সূর্যমুখীর সোনালি হাসিতে বদলে যাচ্ছে রাঙ্গাবালী