মঞ্জুর শাস্তিতে অসন্তুষ্ট জাহানারা, প্রতিমন্ত্রীর কাছে তিন দফা দাবি

বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলম আবারও সরব! জাতীয় দলে খেলার সময় তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া যৌন হয়রানির অভিযোগ নিয়ে ফের মুখ খুলেছেন তিনি। একটি সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত অভিযোগ তোলার পর বিষয়টি তদন্তে নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ২০২৫ সালে গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিটি ২০২৬ সালে তাদের প্রতিবেদন জমা দিলে সেখানে জাহানারার চার অভিযোগের মধ্যে দুইটির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে সাবেক নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুকে বিসিবির সব কার্যক্রম থেকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়।
তবে এই শাস্তিকে পর্যাপ্ত মনে করছেন না জাহানারা। ‘তদন্তের রিপোর্টে মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু দোষী সাব্যস্ত হলে শাস্তিস্বরূপ তাকে শুধুমাত্র বাংলাদেশ ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করা হয়, আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছি, কিন্তু আমি খুশি হতে পারছি না। আমার সাথে যা যা হয়েছে, যা যা আমি মোকাবেলা করেছি, সেই তুলনায় এই শাস্তি খুব সামান্য মনে হয়েছে আমার কাছে। আমি আরও বড় শাস্তি আশা করেছিলাম।’
ভিডিও বার্তায় তিনি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের প্রতি তিনটি অনুরোধ জানান। শুরুতেই তিনি বলেন, ‘মাননীয় (যুব ও) ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ভাইয়া আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমি আজ আপনার কাছে ৩টি অনুরোধ নিয়ে এসেছি, দয়া করে আমার অনুরোধগুলো বিবেচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন বলে আশা করছি।’
জাহানারা তার অভিজ্ঞতার বর্ণনায় বলেন, ‘২০২০-২০২৪ সাল পর্যন্ত মিস্টার তৌহিদ মাহমুদ এবং মিস্টার মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু এই দুইজনের কুপ্রস্তাবে আমি রাজি হই নাই দেখে, চার বছর ধরে আমাকে চরম লেভেলের মেন্টাল টর্চার, মেন্টাল অ্যাবিউস করেছে, সব সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছে এবং আমাকে চরম লেভেলের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তবে তাদের সহযোগী গ্রুপের কোনো বিচারও হয়নি, শাস্তিও হয়নি।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি জাহানারা মঞ্জুর হাত থেকে ছাড় পাইনি। অই জাহানারাও এই মঞ্জুর হাত থেকে ছাড় পাবে বলে আমি মনে করি না।’
তার প্রথম দাবি তুলে ধরে জাহানারা বলেন, ‘আমার প্রথম অনুরোধ মঞ্জু এবং তার সহযোগী গ্রুপের কঠিন থেকে কঠিন বিচার চাই। দয়া করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিচারের ব্যবস্থা করুন।’
একই সঙ্গে তিনি নারী ক্রিকেট প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং সাবেক ক্রিকেটার ও কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাকের মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জাহানারার বক্তব্য, ‘রাজ্জাক ভাইয়ের জানা উচিত ছিল, আমি দল থেকে বাদও পড়িনি, আমি অবসরও নেইনি। আমি মানসিক স্বাস্থ্য ইস্যুতে ছুটিতে আছি, আমার মানতে কষ্ট হয় আপনি একজন ক্রিকেটার ছিলেন। আজকে যদি আপনার বোন, মেয়ে, স্ত্রীরা ক্রিকেট খেলত, আপনি কি এই নোংরা মন্তব্য করতেন?’
দ্বিতীয় অনুরোধে তিনি বলেন, ‘আমি কথা বলেছি দেখে আমার যে বোনেরা সাহস পেয়ে তাদের অভিযোগগুলো মিডিয়ার মাধ্যমে তুলে ধরেছে, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সবগুলোর বিচারের ব্যবস্থা করেন। বিচার না করলে তারা কোনো দিন আর নিজেদের জায়গায় ফিরতে পারবে না।’
তৃতীয় অনুরোধে ক্রীড়াঙ্গনে কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবি তুলে জাহানারা বলেন, ‘ক্রীড়াঙ্গনে নারী এবং শিশুদের জন্য একটা সেইফগার্ডিং পলিসির ব্যবস্থা করে দিন। তাহলে এই নোংরা মানুষগুলো মুখ দিয়ে কুপ্রস্তাব দেওয়া তো দূরে থাক, মেয়েদের দিকে নোংরাভাবে তাকানোরও সুযোগ পাবে না, যদি তাদের অন্যায় প্রমাণিত হয়, তাহলে বড় রকমের আর্থিক জরিমানাসহ কঠিন আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে যেন তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়, দয়া করে আমি হাতজোর করছি আপনাদের কাছে, দয়া করে আমাদের বাঁচান। নারীদের জন্য ক্রীড়াঙ্গনে নিরাপদ পরিবেশের ব্যবস্থা করে দিন।’
ভিওডি বাংলা/এমএস







