• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live
টপ নিউজ
খামেনির বিশেষ ক্ষমায় কারামুক্ত হচ্ছেন ২ হাজারের বেশি বন্দি ঝিনাইদহে বিএনপিতে যোগ দিলেন জামায়াতের ৩০০ নেতাকর্মী এনসিপির ছায়া বাজেটে ৭১ নীতিগত প্রস্তাব বান্ধবীসহ নিখোঁজ দুই বোন ঢাকা উদ্যান থেকে উদ্ধার সরকারি খাল দখল নিয়ে আ. লীগ-বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ, আহত ৭ পুশইন ঠেকাতে সীমান্তে কোস্ট গার্ডের নজরদারি জোরদার কড়াকড়ি উপেক্ষা করে আল-আকসায় জুমার নামাজে মুসল্লিদের ঢল প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বড় দুর্ঘটনার ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হয়েছে: নৌপ্রতিমন্ত্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘গ্রিন ক্যাম্পাস র‍্যাঙ্কিং’ চালুর দাবি জাতীয় ছাত্রমঞ্চের খালেদা জিয়ার স্মরণে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় শোকপ্রস্তাব

সিটি নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে উত্তাপ

ঢাকা দক্ষিণে কে হচ্ছেন আগামীর নগরপিতা?

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২৫ পি.এম.
ছবি : ভিওডি বাংলা

রাজধানীর স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়—ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচন আবারও রাজনৈতিক অঙ্গন ও নগরবাসীর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। নগর পরিচালনার দক্ষতা, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসনের প্রশ্নে এই নির্বাচনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন প্রত্যাশা। অতীতের অভিজ্ঞতা, বিতর্ক এবং অপূর্ণ প্রতিশ্রুতির হিসাব-নিকাশ সামনে এনে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জোরালো হচ্ছে আলোচনা-সমালোচনা এবং সম্ভাবনার নানা সমীকরণ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিবর্তন আসার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে তৎপর হয়ে উঠেছে বড় রাজনৈতিক দলগুলো। সরকার পক্ষ থেকেও দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের তারিখ ঘোষণা করা হয়নি, তবুও দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে কে হচ্ছেন ‘নগরপিতা’—তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে।

বিশেষ করে যারা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাননি, তাদের অনেকেই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। নগরজুড়ে পোস্টার, ব্যানার এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্তমান প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, তিনি বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।

বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবেও দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করেছেন ঢাকা সিটি করপোরেশনের ডেপুটি মেয়র হিসেবেও। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচন পরিচালনায় প্রধান সমন্বয়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। 

এ বিষয়ে আবদুস সালাম বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী আমাকে যোগ্য মনে করে মনোনয়ন দিলে অবশ্যই নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করব। অতীতেও সিটিতে ডেপুটি মেয়র হিসেবে আমার কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে।

ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রোগ্রামে তিনি নিজেও আগামী সিটি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেলে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং নগরবাসীর সমর্থন কামনা করেছেন। অতীতে ডেপুটি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থাকায় নিজেকে একজন যোগ্য প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরছেন তিনি।

বিএনপির অভ্যন্তরে এখনো প্রার্থী নির্বাচন চূড়ান্ত না হলেও আবদুস সালাম ছাড়াও আরও কয়েকজন নেতা দৌড়ে রয়েছেন বলে জানা গেছে। দলীয় সূত্র বলছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছ থেকে।

অপরদিকে, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে একাধিক নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দীন, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. আবদুল মান্নান, কর্মপরিষদ সদস্য মেজবাহ উদ্দিন সাঈদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি সাদিক কায়েম। তবে দলটির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকেও নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হচ্ছে সম্ভাব্য জোট সমীকরণ। শোনা যাচ্ছে, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির মধ্যে নির্বাচনি সমঝোতা হতে পারে। সেক্ষেত্রে ঢাকা দক্ষিণে এনসিপির প্রার্থীকে জামায়াত সমর্থন দিতে পারে এবং ঢাকা উত্তরে জামায়াতের প্রার্থীকে এনসিপি সমর্থন জানাতে পারে—এমন গুঞ্জনও রয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।

এদিকে বিএনপির ভেতরেও আলোচনা চলছে তারা এককভাবে নির্বাচন করবে নাকি জোটবদ্ধভাবে মাঠে নামবে। দলটির অনেক নেতা-কর্মী দ্রুত সিটি নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে মত দিচ্ছেন, যাতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে নগর সেবার কার্যক্রম পরিচালিত হতে পারে।

সব মিলিয়ে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ধীরে ধীরে বাড়ছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা, জোটের হিসাব-নিকাশ এবং সরকারের নির্বাচনী প্রস্তুতির ইঙ্গিত—সবকিছু মিলিয়ে রাজধানীর এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন ঘিরে তৈরি হয়েছে এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ।  এখন নগরবাসীর চোখ ভোটের তারিখ ঘোষণার দিকে, আর সেই সঙ্গে কে হচ্ছেন আগামী দিনের ‘নগরপিতা’ তার প্রতীক্ষায় পুরো ঢাকা দক্ষিণ।

ভিওডি বাংলা/খতিব/এসআর

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
পুশইন ঠেকাতে সীমান্তে কোস্ট গার্ডের নজরদারি জোরদার
পুশইন ঠেকাতে সীমান্তে কোস্ট গার্ডের নজরদারি জোরদার
পদ্মা নদীতে বাস, তদন্তে ২ কমিটি
পদ্মা নদীতে বাস, তদন্তে ২ কমিটি
খালেদা জিয়ার স্মরণে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় শোকপ্রস্তাব
খালেদা জিয়ার স্মরণে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় শোকপ্রস্তাব