শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘গ্রিন ক্যাম্পাস র্যাঙ্কিং’ চালুর দাবি জাতীয় ছাত্রমঞ্চের

পরিবেশবান্ধব, পরিচ্ছন্ন ও টেকসই শিক্ষাঙ্গন গড়ে তুলতে জাতীয় পর্যায়ে ‘গ্রিন ক্যাম্পাস র্যাঙ্কিং’ ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছে জাতীয় ছাত্রমঞ্চ। একই সঙ্গে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে পরিবেশ সুরক্ষায় ‘গ্রিন মুভমেন্ট’ গড়ে তোলার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এই দাবি তুলে ধরা হয়।
মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির (জেডিপি) আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ জাতীয় ছাত্রমঞ্চের প্রস্তাবের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থী বা অভিভাবক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করার সময় যেমন শিক্ষার মান, শিক্ষকদের যোগ্যতা, অবকাঠামো ও নিরাপত্তা বিবেচনা করেন, তেমনি প্রতিষ্ঠানটি পরিবেশবান্ধব কি না সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়া উচিত।
জলবায়ু পরিবর্তনকে বৈশ্বিক অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে নাঈম আহমাদ বলেন, বাংলাদেশ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। তাই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই। তিনি আরও বলেন, দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। ফলে পরিবেশ আন্দোলনও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেই শক্তিশালী ভিত্তি পেতে পারে।
তিনি বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করতে ‘গ্রিন ক্যাম্পাস র্যাঙ্কিং’ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে পারে। এ দাবির পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে জাতীয় ছাত্রমঞ্চ সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন শুরু করুক, সেই আহ্বান জানাই।”
মানববন্ধনে জাতীয় ছাত্রমঞ্চের নেতারা জানান, প্রস্তাবিত ‘গ্রিন ক্যাম্পাস র্যাঙ্কিং’-এর মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশগত কার্যক্রম নির্ধারিত সূচকের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা যেতে পারে। এর মধ্যে থাকবে ক্যাম্পাসে সবুজায়নের পরিমাণ, পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, দেশীয় ও ঔষধি গাছ সংরক্ষণ, পরিবেশ শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম, সাইকেল ও গণপরিবহনবান্ধব অবকাঠামো এবং পরিবেশ সচেতনতামূলক কর্মসূচি।
এসময় জাতীয় ছাত্রমঞ্চের সদস্য সচিব আহনাফ আতিফ গ্রিন ক্যাম্পাস বাস্তবায়নে ৫ দফা দাবি উপস্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো:
১. শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ইউজিসির যৌথ তত্ত্বাবধানে দেশের সব স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশগত কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের জন্য ‘জাতীয় গ্রিন ক্যাম্পাস র্যাঙ্কিং’ ও একটি স্বাধীন মূল্যায়ন কমিটি গঠন করতে হবে।
২. প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ন্যূনতম সবুজ এলাকা সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে হবে। পাশাপাশি পাঠ্যক্রমে নিয়মিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, পরিবেশ শিক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক কর্মশালা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বাধ্যতামূলক জলবায়ু শিক্ষা কোর্স চালু করারও দাবি জানানো হয়।
৩. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বর্জ্য পৃথকীকরণ ও পুনর্ব্যবহার (রিসাইক্লিং) ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
৪. ক্যাম্পাসের বিদ্যুৎ চাহিদার অংশ ধাপে ধাপে সৌরশক্তির মাধ্যমে পূরণের জন্য সরকারি অর্থায়নে সোলার প্যানেল স্থাপন করতে হবে।
৫. পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে সফল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার ও আর্থিক প্রণোদনা দিতে হবে।
মানববন্ধনে জাতীয় ছাত্রমঞ্চের প্রধান সমন্বয়কারী শাহজালাল সায়েম, জেডিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুত্তাকী বিন মুনির, কেন্দ্রীয় সদস্য রাকিবুল মিলন, যুগ্ম সদস্য সচিব রিসাদ সাহলে, কেন্দ্রীয় সদস্য হাসনাঈন হাওলাদার ইফরাতসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
ভিওডি বাংলা/এমএস







