• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবার

লাইফস্টাইল    ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৯ পি.এম.
চিয়া সিডস, তিসি বীজ ও পেয়ারাপ্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফাইবারের গুরুত্বপূর্ণ উৎস: ছবি-ভিওডি বাংলা

সুস্থ ও রোগমুক্ত জীবনযাপনের জন্য খাদ্যতালিকায় ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার রাখা অত্যন্ত জরুরি। অনেকেই মনে করেন ফাইবার শুধু হজম শক্তি বাড়ায় বা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। তবে বাস্তবে ফাইবার শরীরের আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজে ভূমিকা রাখে। এটি কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ, রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখা, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং হৃদ্‌স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়তা করে।

চিকিৎসকদের মতে, ফাইবারের দু’টি ধরন হয়। একটি দ্রবণীয়, অন্যটি অদ্রবণীয়। সলিউবল অর্থাৎ দ্রবণীয় ফাইবার পানিতে দ্রুত মিশে গিয়ে জেলের মতো পদার্থ তৈরি করে। এই ধরনের ফাইবার শরীরের জন্য ক্ষতিকর এলডিএল-এর মাত্রা কমাতে সাহায্য করে, পাশাপাশি রক্তে শর্করা মিশতে বাধা দেয়, ফলে নিয়ন্ত্রণে থাকে ডায়াবেটিস। 

অন্যদিকে, অদ্রবণীয় ফাইবার পানিতে দ্রবীভূত হয় না, তবে এটি অন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত করে এবং হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত দুই ধরনের ফাইবার গ্রহণ করলে পরিপাকতন্ত্র সুস্থ থাকে এবং দীর্ঘমেয়াদে নানা জটিল রোগের ঝুঁকি কমে যায়।

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফাইবারের চাহিদা পূরণে কিছু নির্দিষ্ট খাবার বিশেষভাবে উপকারী হিসেবে বিবেচিত হয়। নিচে সেগুলো তুলে ধরা হলো-

চিয়া সিডস ও পেয়ারা

চিয়া সিডস বর্তমানে অন্যতম জনপ্রিয় সুপারফুড হিসেবে পরিচিত। মাত্র দুই চামচ চিয়া সিডসে প্রায় ১০–১১ গ্রাম ফাইবার পাওয়া যায়, যা দৈনন্দিন চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ করতে সক্ষম। এছাড়া এতে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় মিনারেল। এটি পানিতে ভিজিয়ে বা স্মুদি, ওটস কিংবা সালাদের সঙ্গে খাওয়া যায়।

ফলগুলোর মধ্যে পেয়ারা ফাইবারের অন্যতম উৎকৃষ্ট উৎস। একটি মাঝারি আকারের পেয়ারায় প্রায় ৬–৯ গ্রাম পর্যন্ত ফাইবার থাকতে পারে। এটি দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয়— উভয় ধরনের ফাইবার সরবরাহ করে। পাশাপাশি পেয়ারা ভিটামিন সি, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং বিভিন্ন মিনারেলে সমৃদ্ধ, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।

তিসি বীজ  

তিসির বীজ ফাইবারের আরেকটি চমৎকার উৎস। দুই টেবিল চামচ তিসি বীজে প্রায় ৪–৬ গ্রাম ডায়েটারি ফাইবার পাওয়া যায়। এতে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও প্রোটিন হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। এটি গুঁড়ো করে দই, শেক বা রুটির সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যায়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এসব প্রাকৃতিক ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার অন্তর্ভুক্ত করলে দীর্ঘমেয়াদে শরীর সুস্থ থাকে এবং বিভিন্ন জটিল রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। প্রক্রিয়াজাত খাবারের পরিবর্তে প্রাকৃতিক উৎস থেকে ফাইবার গ্রহণ করা সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর উপায়।

ভিওডি বাংলা/জা


  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
গরমে সজনে ডাঁটা, স্বাদে-গুণে শরীর রাখে সতেজ
গরমে সজনে ডাঁটা, স্বাদে-গুণে শরীর রাখে সতেজ
কয়েক ধাপে সহজেই ঝলমলে বৈশাখী সাজ
কয়েক ধাপে সহজেই ঝলমলে বৈশাখী সাজ
অনন্য তুষার নীরবতায় আত্ম-আবিষ্কারের হিমাচল ভ্রমণ কাহিনি
অনন্য তুষার নীরবতায় আত্ম-আবিষ্কারের হিমাচল ভ্রমণ কাহিনি