আমাদের লক্ষ্য, একটি শিশুও যেন টিকার বাইরে না থাকে

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে শিশুদের হাম-রুবেলা (MR) টিকাদান ক্যাম্পেইন চলতি বছরে সফল বাস্তবায়নে সিটি কর্পোরেশন পর্যায়ে অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর নগর ভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক বলেন, “আমাদের লক্ষ্য থাকতে হবে-একটি শিশুও যেন টিকার বাইরে না থাকে। তিনি আরও বলেন, যেকোনো কর্মসূচির সফলতার মূল ভিত্তি হলো নিজেদের উদ্যোগ ও আন্তরিকতা। মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না হলে পুরো উদ্যোগ ব্যাহত হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন। সবার সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই টিকাদান কর্মসূচি সফল করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পাশাপাশি তিনি ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকি মোকাবিলায় এখন থেকেই প্রস্তুত থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
এছাড়াও সভায় ডিএসসিসি থেকে জানানো হয়, রাজধানীর দক্ষিণাঞ্চলে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭৮ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। অবশিষ্ট শিশুদের দ্রুত টিকাদান সম্পন্ন করতে মাঠ পর্যায়ে জোরদার কার্যক্রম চলছে। বাড়ি বাড়ি খোঁজ নেওয়া, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক কার্যক্রম জোরদার করা এবং ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরির মাধ্যমে শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ অব্যাহত রয়েছে।
সভায় বিভিন্ন এনজিও সংস্থার প্রতিনিধিরা মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম তুলে ধরেন। তারা জানান, ঘরে ঘরে সচেতনতা কার্যক্রম, অভিভাবকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, লিফলেট বিতরণ, পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনের মাধ্যমে প্রচারণা এবং মাইকিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে তারা কিছু চ্যালেঞ্জ যেমন সচেতনতার ঘাটতি ও গুজব মোকাবিলার বিষয় তুলে ধরে আরও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের সুপারিশ করেন।
সভায় শিক্ষক ও চিকিৎসা প্রতিনিধি দল শিক্ষার্থীদের মাঝে টিকাদান কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা টিকার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, ভ্রান্ত ধারণা দূর করা এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থীকে টিকার আওতায় আনার দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইউনিসেফের প্রতিনিধিরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, হাম-রুবেলা (MR) টিকাদান ক্যাম্পেইন–২০২৬ শিশুদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তারা কারিগরি সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও লজিস্টিক সাপোর্ট অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন এবং বাংলাদেশে পূর্ববর্তী সফল টিকাদান কর্মসূচির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এই ক্যাম্পেইন সফল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ক্রাইম বিভাগের প্রতিনিধিরা জানান, টিকাদান ক্যাম্পেইন চলাকালীন কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি না হতে দিতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি গুজব ও বিভ্রান্তি প্রতিরোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ডিএমপি সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবে বলে তারা আশ্বাস দেন।
এছাড়া ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টিকার কার্যকারিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, টিকাদান কর্মসূচির সফলতা টিকার গুণগত মান, সঠিক সংরক্ষণ ও পর্যাপ্ত সরবরাহের ওপর নির্ভর করে। তিনি বলেন, “টিকার ওষুধের পরিমাণ যেন সবসময় পর্যাপ্ত ও সঠিক থাকে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ নজর রাখতে হবে।” তিনি আরও বলেন, সঠিক সংরক্ষণ ও মান বজায় রেখে বিতরণ নিশ্চিত করা হলে টিকার কার্যকারিতা অটুট থাকবে এবং শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সভায় উপস্থিত সকল অংশীজন সম্মিলিতভাবে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে হাম-রুবেলা (MR) টিকাদান ক্যাম্পেইন–২০২৬ সফলভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে এবং একটি শিশুও টিকার বাইরে থাকবে না।
ভিওডি বাংলা/জা







