জলমহাল ইজারা নিয়ে বিতর্ক
এসি ল্যান্ডের অপকৌশলে বঞ্চিত ২৩ ভূমিহীন পরিবার

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের উদগ্রাম মৌজায় অবস্থিত প্রায় ৬.৫৮ একর আয়তনের একটি সরকারি খাস দিঘী ইজারা প্রদানকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এতে অন্তত ২৩টি ভূমিহীন পরিবার বঞ্চিত হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিঘীটি দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ধরে একটি প্রভাবশালী তৎকালীন রাজনৈতিক মহলের নিয়ন্ত্রণে ছিল। দিঘীর পাড়ে বসবাসরত উদগ্রাম পূর্ব হিন্দুপাড়া আশ্রয়ন-২ সমবায় সমিতি লিমিটেডের সদস্যরা সরকার স্বীকৃত ভূমিহীন পরিবার হওয়া সত্ত্বেও কখনো এই জলমহাল ব্যবহারের সুযোগ পাননি।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, দিঘী ইজারার জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হলে অনলাইনে মাত্র দুইজন দরদাতা অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে একজন সরে দাঁড়ালে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পুরো টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব ছিল এবং পরিকল্পিতভাবে ভূমিহীন পরিবারগুলোকে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখা হয়।
অভিযোগ উঠেছে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান এর বিরুদ্ধে । ভুক্তভোগীদের দাবি, তিনি কৌশলে তাদের টেন্ডারে অংশগ্রহণের সুযোগ না দিয়ে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাহমুদুল হাসান। তিনি বলেন, সব কার্যক্রম আইন অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে। আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন।
বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, ইজারা প্রক্রিয়ার সময় আমি দায়িত্বে ছিলাম না। যোগদানের পর নথিতে স্বাক্ষর করেছি মাত্র। তবে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সমবায় সমিতি লিখিত আবেদনে জানিয়েছে, বিকল্প আয়ের উৎস না থাকায় তাদের জীবন-জীবিকা এই দিঘীর ওপর নির্ভরশীল।
তথ্য অনুযায়ী, একটি সভায় উদগ্রাম পূর্বপাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিকে দিঘীর নিকটবর্তী ও উপযুক্ত বিবেচনায় ১৪৩৩ থেকে ১৪৩৫ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত তিন বছরের জন্য ৫৫ হাজার ৫০০ টাকায় ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী সমিতির অনাগ্রহ দেখানোর পরও এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সিদ্ধান্ত কার্যকর না করে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যের নজরে আনা হলেও তার সুপারিশও বাস্তবায়ন হয়নি বলে দাবি করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, আমরা গরিব মানুষ। এই দিঘীই আমাদের বাঁচার একমাত্র উপায়। অথচ বারবার আমাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ভূমিহীনদের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
ভিওডি বাংলা/আ স ম জাকারিয়া/আ







