• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন হত্যায় এলাকার আধিপত্যের ইঙ্গিত, বললেন ডিবি প্রধান

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪০ পি.এম.
ডিএমপির সংবাদ সম্মেলন। ইনসার্টে নিহত টিটন। ছবি: ভিওডি বাংলা

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় এক সময়ের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ ওরফে টিটনকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় এলাকার আধিপত্য বিস্তারের বিষয়টি সামনে এসেছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এলাকার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্যকে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকালে ডিএমপির সদরদপ্তরে ইয়াবা ও গাঁজাসহ বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ডিবি প্রধান বলেন, “আপনারা জানেন, সে একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিল। আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, এলাকার আধিপত্য নিয়েই ঘটনাটি ঘটেছে। কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। খুব দ্রুত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করতে পারব।”

তিনি আরও বলেন, “যারা এ ঘটনার জন্য দায়ী, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। গতকালের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আমরা মাঠে কাজ করছি। কারা জড়িত এবং হত্যার মূল কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।”

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে নিউমার্কেটের পশ্চিম পাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাস সংলগ্ন বটতলা এলাকায় টিটনকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি মাস্ক ও ক্যাপ পরে খুব কাছ থেকে গুলি চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ৮টা ২৭ মিনিটে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে নিহত টিটনের বড় ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন দাবি করেছেন, মোহাম্মদপুরের বসিলার গরুর হাটের ইজারা নিয়ে আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি হেলালের সঙ্গে টিটনের বিরোধ চলছিল।

বুধবার দুপুরে নিউমার্কেট থানার সামনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “হত্যার কয়েকদিন আগে টিটন বলেছিল, পিচ্চি হেলালের সঙ্গে বসিলার গরুর হাট নিয়ে ঝামেলা চলতেছে। পরে আবার বলেছিল, ঠিক হয়ে যাবে।” তিনি আরও বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চান তারা।

এদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে টিটন হত্যার ঘটনায় নিউমার্কেট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন রিপন। বিষয়টি নিশ্চিত করে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, মামলায় ৮ থেকে ৯ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালে প্রকাশিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় টিটনের নাম ২ নম্বরে ছিল। ১৯৯০-এর দশকে তিনি অপরাধ জগতে সক্রিয় হন এবং মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি ও নিউমার্কেট এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন।

তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা ছিল। ব্যবসায়ী বাবর এলাহী হত্যা মামলায় তিনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন। দীর্ঘ সময় কারাভোগের পর ২০২৪ সালের আগস্টে জামিনে মুক্তি পান।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের মতে, টিটন হত্যার পেছনে কয়েকটি কারণ গুরুত্ব পাচ্ছে—এলাকার আধিপত্য বিস্তার, বসিলার গরুর হাটের ইজারা নিয়ে বিরোধ এবং পুরোনো আন্ডারওয়ার্ল্ড দ্বন্দ্ব।

এখন দেখার বিষয়, তদন্তে কোন কারণটি প্রধান হিসেবে উঠে আসে এবং কারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল।

ভিওডি বাংলা/এম আই/আ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
বুধবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট বন্ধ
বুধবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট বন্ধ
এক মিনিটের মিশনে স্তব্ধ আন্ডারওয়ার্ল্ড, আলোচনায় জোসেফের নাম
এক মিনিটের মিশনে স্তব্ধ আন্ডারওয়ার্ল্ড, আলোচনায় জোসেফের নাম
নিউ মার্কেটে গুলিতে নিহত ব্যক্তি ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ টিটন
নিউ মার্কেটে গুলিতে নিহত ব্যক্তি ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ টিটন