• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

সংস্কৃতি চর্চা ছাড়া সমাজকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়: আবদুস সালাম

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১৭ পি.এম.
ছবি: ভিওডি বাংলা

সমাজকে সুস্থ ও সুন্দর রাখতে এবং যুবসমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সংস্কৃতি চর্চার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকালে রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান ও নৃত্যানুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আবদুস সালাম বলেন, যেমন শিক্ষার প্রয়োজন রয়েছে, তেমনি সমাজ ও শরীরকে সুস্থ রাখতে সংস্কৃতির চর্চাও অপরিহার্য।” তিনি বিশেষভাবে তরুণদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে বর্তমান প্রজন্ম অনেকটাই সাংস্কৃতিক চর্চা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। “আমাদের ছাত্র-ছাত্রী ও কিশোর-কিশোরীরা এখন একটি মোবাইল ফোনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে,” যোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ নৃত্য আজ অনেকটা ক্ষয়িষ্ণু অবস্থায় রয়েছে। তরুণ সমাজ নিজেদের বিকাশের বিস্তৃত জগত থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, যা কোনোভাবেই শুভ লক্ষণ নয়।

প্রশাসক বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে নৃত্য, গানসহ নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এসব কার্যক্রমকে আরও উন্নত করা এবং তরুণদের মানসম্মত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে কাজ করছেন। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মাদক সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি জানান, যদি একজন মানুষ নৃত্য, গান বা খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে মাদক তাকে কখনোই গ্রাস করতে পারবে না। তিনি অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধু পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ না রেখে সন্তানদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে হবে।

অতীতের চর্চার কথা স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, একসময় প্রায় প্রতিটি শিক্ষিত পরিবারেই সন্তানদের গান বা নৃত্য শেখানোর প্রবণতা ছিল, এমনকি অনেক বাড়িতে হারমোনিয়ামও থাকত। কিন্তু বর্তমানে সেই চর্চা অনেকটাই হারিয়ে গেছে।

সমাজের ভারসাম্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, আল্লাহ প্রত্যেক মানুষকে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিভা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। কেউ ডাক্তার, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ শিল্পী বা খেলোয়াড়—প্রত্যেকেরই নিজস্ব ভূমিকা রয়েছে। তাই সব সন্তানকে একমাত্র পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার সংস্কৃতি খাতকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে এবং এখন নৃত্যকলায় অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে।

শেষে তিনি সংস্কৃতিমনা সমাজ গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং এ ধরনের যেকোনো উদ্যোগে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

বাংলাদেশ নৃত্য শিল্পী সংস্থার সদস্য অধ্যাপক ড. নিগার চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্থার উপদেষ্টা একুশে পদকপ্রাপ্ত আমানুল হক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সোমা মুমতা এবং সংস্থার নৃত্য পরিচালক ও সদস্য মুনমুন আহমেদ।

ভিওডি বাংলা/খতিব/আ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া টেকসই নগরী সম্ভব নয়
ডিএসসিসি প্রশাসক পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া টেকসই নগরী সম্ভব নয়
চোখের চিকিৎসা সহজলভ্য করতে অপটোমেট্রি পেশার স্বীকৃতি প্রয়োজন: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
চোখের চিকিৎসা সহজলভ্য করতে অপটোমেট্রি পেশার স্বীকৃতি প্রয়োজন: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
বিমানবাহিনী কর্মকর্তার স্ত্রী হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
বিমানবাহিনী কর্মকর্তার স্ত্রী হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার