উত্তর-পূর্বাঞ্চলে উজানের ঢল, বৃষ্টি-বন্যায় পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় হাওর অববাহিকায় টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে নদ-নদীর পানি বাড়ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
পাউবোর সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহান জানান, নেত্রকোনার ভুগাই-কংস নদীর জারিয়া জাঞ্জাইল পয়েন্টে, সোমেশ্বরী নদীর কমলাকান্দা পয়েন্টে, মগরা নদীর নেত্রকোনা পয়েন্টে এবং মৌলভীবাজারের মনু নদীর পানি প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সুরমা-কুশিয়ারা ও ধনু-বাউলাই নদীর পানির সমতল গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেলেও তা এখনও প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উজানে মাঝারি থেকে ভারী এবং কোথাও কোথাও অতিভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সময়ে হাওর অঞ্চলেও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
পাউবো জানিয়েছে, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী তিন দিন এ অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানির সমতল আগামী তিন দিন বাড়তে পারে। তৃতীয় দিনে কুশিয়ারা নদীর পানি প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং সুরমা নদী সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া নেত্রকোনার ভুগাই-কংস নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে, যা জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা তৈরি করছে।
নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের ধনু-বাউলাই নদীর পানিও বাড়তে পারে। এর মধ্যে বাউলাই নদী খালিয়াজুড়ি পয়েন্টে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে, ফলে নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।
অন্যদিকে, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের মনু, খোয়াই ও জুড়ি নদীর পানিও বাড়তে পারে। এর মধ্যে খোয়াই ও জুড়ি নদী দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টায় প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে মৌলভীবাজারের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি এবং হবিগঞ্জে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ/আ







