শর্তসাপেক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সংলাপে আগ্রহী ইরান

যুদ্ধ-উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় আলোচনায় বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইরান। তবে তেহরানের শর্ত- ওয়াশিংটনকে ‘অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি’ ও হুমকিমূলক বক্তব্য থেকে সরে আসতে হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন প্রেস টিভির বরাতে জানা যায়, তুরস্ক সফরকালে আঞ্চলিক এক বৈঠকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি এ অবস্থান তুলে ধরেন। ওই বৈঠকে তুরস্ক, কাতার, সৌদি আরব, মিসর, ইরাক ও আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে আরাগচি বলেন, “ইরান এই যুদ্ধ শুরু করেনি। যদি যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি ভেঙে আবার হামলা চালায়, তবে তা মোকাবিলায় আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।” একইসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, মতপার্থক্য নিরসনে সংলাপই সর্বোত্তম পথ।
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মতভেদগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হোক। একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরান আবার আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি ও উত্তেজনামূলক বক্তব্য বন্ধ করতে হবে।”
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। টানা ৪০ দিন সংঘাত চলার পর গত ৮ এপ্রিল উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
এরপর ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে সরাসরি বৈঠকে বসে দুই দেশের প্রতিনিধিদল। প্রায় ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমঝোতা না হওয়ায় চুক্তি স্বাক্ষর ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়।
পরবর্তী সংলাপের ভিত্তি হিসেবে কয়েক দিন আগে তিন ধাপের একটি পরিকল্পনা প্রস্তাব করে তেহরান। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন বলে জানা গেছে।
এদিকে কূটনৈতিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে, ওই প্রস্তাব নাকচ হওয়ার পর নতুন করে আরেকটি পরিকল্পনা পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে পাঠিয়েছে ইরান। যদিও সর্বশেষ প্রস্তাবের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ভিওডি বাংলা/জা







