• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

এপ্রিলে রপ্তানি আয় ৪০০ কোটি ডলার ছাড়ালো

   ৩ মে ২০২৬, ০৮:১২ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে রপ্তানি আয় বেড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৩ শতাংশ বেশি। এর মধ্যদিয়ে টানা ৮ মাস পতনের পর ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের রপ্তানি খাত।

রোববার (৩ মে) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত পণ্য রপ্তানির মাসভিত্তিক হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

তৈরি পোশাক খাতের চালান বৃদ্ধি এবং প্রধান বাজারগুলোতে নতুন করে চাহিদা তৈরি হওয়ায় এই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সদ্য সমাপ্ত এপ্রিল মাসে রপ্তানি আয় ৪০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩২ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি। গত বছরের এপ্রিল মাসে রপ্তানি আয় ছিল ৩০১ কোটি ডলার। এছাড়া চলতি বছরের মার্চ মাসে রপ্তানি আয় ছিল ৩৪৮ কোটি ডলার, যার তুলনায় এপ্রিলে আয় বেড়েছে ১৫ দশমিক ২০ শতাংশ।

নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ ও এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, এপ্রিল মাসে তৈরি পোশাক খাতে যে প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, তা মূলত আগের মাসে রপ্তানি কম হওয়ার প্রতিফলন।

তিনি জানান, মার্চ মাসে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে প্রায় ১০ দিনের দীর্ঘ ছুটির কারণে কারখানাগুলোর উৎপাদন ব্যাহত হয়, ফলে রপ্তানি কমে যায়। ওই সময় যেসব পণ্যের চালান পাঠানো সম্ভব হয়নি, সেগুলোর একটি বড় অংশ এপ্রিল মাসে শিপমেন্ট হওয়ায় রপ্তানি আয় বেড়েছে।

তবে বাস্তবে নতুন করে অতিরিক্ত অর্ডার আসেনি কিংবা ক্রেতার চাপও বাড়েনি বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, এ প্রবৃদ্ধিকে স্থায়ী ধারা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

মোহাম্মদ হাতেম বলেন, চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে আবারও বড় ধরনের ছুটি থাকায় উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটতে পারে, যা রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। রপ্তানির প্রকৃত অবস্থা বুঝতে হলে অন্তত জুলাই মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করা প্রয়োজন। কারণ, ঈদের প্রভাবে মে ও জুন মাসেও রপ্তানিতে সাময়িক ওঠানামা থাকতে পারে।

ইপিবির তথ্য বলছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে পণ্য রপ্তানিতে প্রায় ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। তারপর টানা ৮ মাস পণ্য রপ্তানি কমেছে। তবে পতনের ধারা ভেঙে এপ্রিলে রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, যা কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছে রপ্তানি খাতে।

রপ্তানি আয়ের এই প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে দেশের রপ্তানি পণ্যের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্প। এপ্রিলে খাতটি থেকে আয় হয়েছে ৩১৪ কোটি ডলার। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩১ দশমিক ২১ শতাংশ বেশি। গত বছর এপ্রিলে তৈরি পোশাকের রপ্তানি আয় ছিল ২৩৯ কোটি ডলার। এছাড়া এপ্রিলে  নিট পোশাকের রপ্তানি ৩০ শতাংশ এবং ওভেন পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৩২ শতাংশ।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) ৩ হাজার ৯৩৯ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ০২ শতাংশ কম। গেল অর্থবছরে একই সময় রপ্তানি আয় ছিল ৪ হাজার ২০ কোটি ডলার।

ইপিবির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এপ্রিল মাসে তৈরি পোশাক খাতেই নয়, দেশের অন্যান্য প্রধান রপ্তানি খাতেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি এসেছে। কৃষিপণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল এবং প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি আয়ও এ সময়ে বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিভিন্ন খাতে এই সমন্বিত প্রবৃদ্ধিই সামগ্রিক রপ্তানি আয়ের ঊর্ধ্বগতিকে ত্বরান্বিত করেছে।

ভিওডি বাংলা/এফএ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
প্রথমবারের মতো ভ্যাটসহ সোনার দাম নির্ধারণ, ভরিতে কমলো ৯০১৩ টাকা
প্রথমবারের মতো ভ্যাটসহ সোনার দাম নির্ধারণ, ভরিতে কমলো ৯০১৩ টাকা
প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী: ওয়েব
প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী: ওয়েব
তামাকপণ্য সহজলভ্য হলে রাজস্ব আয় কমবে: আহছানিয়া মিশন
তামাকপণ্য সহজলভ্য হলে রাজস্ব আয় কমবে: আহছানিয়া মিশন