বগুড়ায় মাদরাসার ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ভন্ড কবিরাজ গ্রেপ্তার

বগুড়া শহরের নামাজগড় এলাকায় কবিরাজি চিকিৎসার নামে ১৪ বছরের দাখিল এসএসসি সমমান পরীক্ষার্থীকে দুবার ধর্ষণের অভিযোগে রেজাউল করিম ৪০ নামে এক ভণ্ড কবিরাজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে শহরের নামাজগড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত রেজাউল করিম ওই এলাকারই বাসিন্দা। তিনি ভান্ডারী মসজিদ সংলগ্ন আশ-সিফা দাওয়া খানা নামক একটি প্রতিষ্ঠান খুলে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে কবিরাজি চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী রাজশাহীর একটি কওমি মাদরাসার শরহে বেকায়া এসএসসি সমমান শ্রেণির শিক্ষার্থী। দীর্ঘদিনের মাথাব্যথা উপশমে ব্যর্থ হয়ে গত ৩ মে সকালে পরিচিত একজনের পরামর্শে তার বাবা তাকে রেজাউলের দাওয়াখানায় নিয়ে যান। সেখানে অভিযুক্ত কবিরাজ দাবি করেন, কিশোরীর ওপর জিনের আছর রয়েছে এবং ঝাড়ফুঁক করতে হবে।
চিকিৎসার অযুহাতে রেজাউল কিশোরীকে ঘরের ভেতর রেখে বাবা ও সঙ্গে থাকা লোকজনকে বাইরে বের করে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। এরপর কক্ষের ভেতরে কিশোরীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে প্রথম দফায় ধর্ষণ করেন। ওই দিনই বিকালে ঝাড়ফুঁকের অবশিষ্ট কাজের কথা বলে আরও ১৬,৫০০ টাকা নিয়ে পুনরায় আসতে বলেন রেজাউল।
বাবার করা এজাহার অনুযায়ী, আসামির কথামতো গত ৪ জুন বিকালে পুনরায় টাকা নিয়ে কবিরাজের দাওয়াখানায় গেলে রেজাউল আবারও কিশোরীকে ঘরের ভেতর নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন এবং একইভাবে দ্বিতীয় দফায় তাকে ধর্ষণ করেন। ঘর থেকে বের হয়ে কিশোরী কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং পরিবারের কাছে বিস্তারিত খুলে বলে। এরপর স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে ভুক্তভোগীর বাবা বগুড়া সদর থানায় উপস্থিত হয়ে লিখিত এজাহার দাখিল করেন।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, "ঘটনাটি জানার পর এবং ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত কবিরাজকে গ্রেপ্তার করেছি। ভুক্তভোগী কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ভিওডি বাংলা/আ স ম জাকারিয়া/জা







