রাঙ্গাবালীতে এতিমখানার শিশুশিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগে শিক্ষক আটক

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় একটি এতিমখানা ও হাফিজিয়া মাদ্রাসায় ১০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে এক শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব নেতা আকরামিয়া শিশু এতিমখানা ও হাফিজিয়া মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিবাগত গভীর রাতে হিফজ বিভাগের শিক্ষক হাফেজ সফিকুল ইসলাম জিসান শিশুটিকে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে অনৈতিক আচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
পরদিন সকালে শিশুটি মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে পুরো বিষয়টি জানায়। এরপর ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে প্রায় দুই ঘণ্টা পর তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনার পর শিশুটির পরিবার ভেঙে পড়েছে। শিশুটির বাবা-মা জানান, নিরাপদ শিক্ষা ও ভালো ভবিষ্যতের আশায় সন্তানকে মাদ্রাসায় ভর্তি করালেও এমন ঘটনার সম্মুখীন হতে হবে, তা তারা ভাবেননি। তারা অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।
এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে বক্তারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে এ ধরনের অপরাধের দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক গত ২৮ এপ্রিল ওই মাদ্রাসায় হিফজ বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। তার বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কাজলকাঠি গ্রামে।
রাঙ্গাবালী থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) ইলিয়াছ হোসেন মুন্সি বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ভিওডি বাংলা/মো. কাওছার আহম্মেদ/জা







