• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

গঙ্গাধরের মানচিত্র থেকে হারাচ্ছে নারায়নপুরের চৌদ্দঘুড়ি ও বালারহাট

কুড়িগ্রাম উত্তর প্রতিনিধি    ৮ মে ২০২৬, ০৫:৫৯ পি.এম.
ছবি-ভিওডি বাংলা

উত্তর জনপদ কুৃড়িগ্রামে গঙ্গাধর নদী ভাঙনে গৃহহীন, বেকারত্ব, দারিদ্র্যতার সাথে লড়াই করে ভিটেমাটি হারিয়ে আশ্রয়হীন। স্থায়ী সমাধানে চর বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করে নদী ভাঙন ঠেকানোর প্রতিকারের দাবি ভাঙন-কবলিতদের। নদী ভাঙনে গত এক সপ্তাহে নারায়নপুর ইউনিয়নের চৌদ্দঘুড়ি, বালারহাট এলাকায় ২০ পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে আশ্রয়হীন। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছেন ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ পর্যাপ্ত রয়েছে এবং জরুরি পদক্ষেপ নেয়া হবে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, দেশের সবচেয়ে দরিদ্রতম জেলা কুড়িগ্রামে দারিদ্রের হার ৭০ দশমিক ৮ শতাংশ এবং অতিদরিদ্রদের হার ৫৩ দশমিক ২ শতাংশ। এর প্রধান কারণ নদী ভাঙন এবং ধরলা, দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র, ফুলকুমার, গঙ্গাধর ও তিস্তাসহ ১৬টি নদ-নদীর ভয়াবহ ভাঙনে প্রতিবছর ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে প্রায় ৫ হাজার পরিবার। আর এসব পরিবার ভিটেমাটি ও আবাদী ফসল হারিয়ে অনিশ্চিত ও চরম দুর্ভোগে চলছে মানবেতর জীবনযাপন।

নারায়নপুর ইউনিয়নের চৌদ্দঘুড়ি, বালারহাট এলাকা গঙ্গাধর নদীর তীব্র ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি ও বসতভিটা এবং বিস্তীর্ণ এলাকা আবারও হুমকির মুখে। পরিবারগুলো ভিটেমাটি হারিয়ে আশ্রয়হীন। জীবন জীবিকা হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায়। স্থায়ী পুনর্বাসন না পেয়ে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। ভাঙন আতঙ্কে চৌদ্দঘুড়ি বিজিবি ফাড়ি, প্রাইমারী, হাইস্কুল, বাজার, কৃষিজমি ও বসতভিটা। জরুরিভাবে ভাঙন রোধ না হলে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে নারায়নপুর ইউনিয়নের চৌদ্দঘুড়ি ও বালারহাট গ্রাম।

নারায়নপুর ইউনিয়নের চৌদ্দঘুড়ির আশরাফ আলী ও রাসেল মিয়া বলেন, গঙ্গাধর নদী আমাদের গ্রাস করছে। ঘরবাড়িও ঝুঁকিতে পরিবার নিয়ে কোথায় যাব। ভাঙনের ভয়ে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারি না। প্রতিবারই কাজের আশ্বাস পাই, কিন্তু বাস্তবে কিছুই হয় না। ময়েজ উদ্দিন বলেন, আমার চাষের জমি নদীতে চলে গেছে। আয়-রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। দ্রুত স্থায়ী সমাধান চাই।

নারায়নপুর ইউনিয়নের বালারহাট গ্রামের আজিজুর রহমান ও আজিবুর রহমান বলেন, গঙ্গাধর নদীর ভাঙনে নিঃস্ব হয়ে পড়লেও কার্যকর কোনো স্থায়ী সমাধান মিলছে না। ভিটেমাটি হারিয়ে আমরা কোথায় যাব তা ঠিক হয়নি। জরুরিভাবে ভাঙন রোধে দ্রুত এর বাস্তবায়ন চাই।

নারায়নপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মজিবর রহমান জানান, আবাদী জমি-বাড়িঘর গঙ্গাধর নদীর ভাঙছে। এখানকার মানুষ অনেক কষ্ট করে বসবাস করে। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকর্তাকে অবগত করা হয়েছে। প্রতিবার একই ধরনের আশ্বাস দেওয়া হলেও দীর্ঘমেয়াদি কোনো টেকসই উদ্যোগ বাস্তবায়ন না

ভিওডি বাংলা/জাহাঙ্গীর আলম/জা 


  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে আশার আলো
ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে আশার আলো
প্রবাসী দিপালীর দাফন সম্পন্ন
প্রবাসী দিপালীর দাফন সম্পন্ন
হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেটে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু
হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেটে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু