স্বজন হত্যার বিচার না পেয়ে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা বিএনপিকর্মীর

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল জলিল তোতা একের পর এক স্বজন হত্যার বিচার না পাওয়ার অভিযোগ তুলে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে দুধ দিয়ে গোসল করে তিনি এ ঘোষণা দেন। তার দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় নয়, তিনি স্বজন হত্যার ন্যায়বিচার চান।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) নিজ বাড়িতে দুধ দিয়ে গোসল করে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন আব্দুল জলিল। তার এই ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি প্রথমে বিএনপির সমর্থক এবং পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে কাজী আজহার আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি একটি নির্বাচনী বুথের দায়িত্বও পালন করেন।
রাজনীতি ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে আব্দুল জলিল বলেন, ‘২০১৮ সালের ৫ জুলাই আমার চাচাতো ভাই মুকুলকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই হত্যার বিচার পাইনি। এরই মধ্যে ২১ জুন আমার মামাতো ভাই, ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারীকেও হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার বিচার পাব কি না, তাও জানি না। বারবার স্বজন হারানো আর বিচার না পাওয়ার কষ্ট আমাকে ভেঙে দিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই রাজনীতি মানুষের মধ্যে বিভেদ ও রক্তপাত বাড়াচ্ছে। তাই আমি আর রাজনীতির সঙ্গে থাকতে চাই না। প্রতীকীভাবে দুধ দিয়ে গোসল করে রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছি। এখন একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে শান্তিতে বাঁচতে চাই।’
আব্দুল জলিল বলেন, ‘আমি কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের জন্য নয়, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে ন্যায়বিচার চাই। আমার স্বজনদের হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।’
এদিকে সাঘাটা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সেলিম আহমেদ তুলিপ বলেন, আব্দুল জলিলের রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তিনি দাবি করেন, আব্দুল জলিল বিএনপির কোনো পদধারী নেতা বা কমিটির সদস্য নন এবং বর্তমানে দলের কোনো সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও সম্পৃক্ত নন। তাই তার ব্যক্তিগত বক্তব্য ও সিদ্ধান্তের দায় দল নেবে না।
ভিওডি বাংলা/আ








মন্তব্য