• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

আজ শহীদ জননী জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকী

ভিওডি বাংলা ডেস্ক    ২৬ জুন ২০২৬, ১২:৩৭ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সন্তান রুমীকে হারিয়েও ব্যক্তিগত শোককে জাতীয় সংগ্রামে রূপ দিয়েছিলেন শহীদ জননী জাহানারা ইমাম। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে আপসহীন আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। আজ (২৬ জুন) এই মহান ব্যক্তিত্বের মৃত্যুবার্ষিকী।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আন্দোলন এবং দেশপ্রেমের ইতিহাসে জাহানারা ইমাম এক অবিস্মরণীয় নাম। শহীদ সন্তান রুমীকে হারানোর পর তিনি শুধু একজন মায়ের পরিচয়ে সীমাবদ্ধ থাকেননি; হয়ে উঠেছিলেন পুরো জাতির ‘শহীদ জননী’।

১৯২৯ সালের ৩ মে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুরে জন্মগ্রহণ করেন জাহানারা ইমাম। বাবা সৈয়দ আবদুল আলী ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট এবং মা সৈয়দা হামিদা বেগম। বাবার চাকরির সুবাদে তৎকালীন পূর্ববাংলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন তিনি। ১৯৪৫ সালে কলকাতার লেডি ব্রাবোর্ন কলেজ থেকে স্নাতক এবং ১৯৬৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন জাহানারা ইমাম। ময়মনসিংহের বিদ্যাময়ী বালিকা বিদ্যালয়, সিদ্ধেশ্বরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে শিক্ষকতা করেছেন তিনি। ফুলব্রাইট বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পরও শিক্ষকতায় ফিরে আসেন।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ তাঁর জীবনে নিয়ে আসে গভীর শোক। বড় ছেলে রুমী মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন। একই সময়ে অসুস্থ স্বামী শরীফ ইমামও চিকিৎসার অভাবে মারা যান। স্বাধীনতার পর রুমীর সহযোদ্ধারা তাঁকে সব মুক্তিযোদ্ধার মা হিসেবে সম্মান জানালে তিনি ‘শহীদ জননী’ নামে পরিচিতি লাভ করেন।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে লেখা তাঁর দিনলিপি ‘একাত্তরের দিনগুলি’ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রামাণ্য মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এছাড়া ‘অন্য জীবন’, ‘বীরশ্রেষ্ঠ’, ‘জীবন মৃত্যু’, ‘চিরায়ত সাহিত্য’, ‘বুকের ভিতরে আগুন’, ‘নাটকের অবসান’, ‘দুই মেরু’, ‘নিঃসঙ্গ পাইন’, ‘নয় এ মধুর খেলা’, ‘ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস’ ও ‘প্রবাসের দিনলিপি’ তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা।

স্বাধীনতার পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে তিনি সরাসরি আন্দোলনে যুক্ত হন। ১৯৯২ সালে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি’র আহ্বায়ক হিসেবে তাঁর নেতৃত্বে গঠিত গণআদালত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিকে জাতীয় আন্দোলনে রূপ দেয়।

জীবনের শেষদিকে ক্যানসারে আক্রান্ত জাহানারা ইমাম ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। পরে তাঁর মরদেহ দেশে এনে ঢাকায় দাফন করা হয়।

ভিওডি বাংলা/আ


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময়
শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময়
ছবি: সংগৃহীত
বায়ুদূষণে শীর্ষে ইন্দোনেশিয়া, ঢাকার বাতাসে স্বস্তি
ছবি: সংগৃহীত
১৪ জেলায় ৬০ কি.মি বেগে ঝড়ের আশঙ্কা