সামাজিক সমস্যার সমাধানও সামাজিকভাবেই সম্ভব: আবদুস সালাম

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেছেন, একটি এলাকায় বসবাস করলে স্বাভাবিকভাবেই সুখ-দুঃখ, অভাব-অভিযোগ থাকবে। তবে এসব সমস্যার সমাধানে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সামাজিক সমস্যার সমাধানও সামাজিকভাবেই সম্ভব।
শুক্রবার (৮ মে) রাতে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সেগুনবাগিচা সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, নাগরিকরা যেসব দাবি ও সমস্যা তুলে ধরেছেন, সেগুলো ব্যক্তিগত নয় বরং সামগ্রিক সমাজের সমস্যা। অতীতে এলাকাবাসীর ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কারণেই বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়ন হয়েছে।
তিনি বলেন, নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা সরকারের ও সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব। জনগণ ট্যাক্স দেয় বলেই সরকার ও সিটি করপোরেশন সেই সেবাগুলো নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করে। তবে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে অনেক সমস্যা জটিল আকার ধারণ করেছে।
আবদুস সালাম জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি দুটি বড় সমস্যা চিহ্নিত করেছেন—হকার ও রিকশা সমস্যা। বিশেষ করে যান্ত্রিক রিকশার কারণে রাজধানীতে দুর্ঘটনা ও যানজট বাড়ছে।
হকার উচ্ছেদে পদক্ষেপ নেওয়ায় সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যেটা প্রয়োজন, সেটা করতেই হবে। জনগণের হাঁটার ফুটপাত জনগণের জন্যই রাখতে হবে।”
হকারদের পুনর্বাসনের বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, শুধু উচ্ছেদ নয়, তাদের জীবিকার ব্যবস্থাও করতে হবে। তবে রাজধানীর সীমিত অবকাঠামোর মধ্যে অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, ফুটপাত ও রাস্তা দখলমুক্ত রাখতে শুধু সিটি করপোরেশন বা পুলিশের পক্ষে সার্বক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়। এজন্য স্থানীয় বাসিন্দা, সমিতি ও সামাজিক সংগঠনগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে। তিনি বলেন, “আপনার এলাকার দায়িত্ব আপনাকেই নিতে হবে।”
আবাসিক ভবনে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানোর বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। কার্পেটের দোকান, চায়ের দোকান বা ফার্নিচারের শোরুম গড়ে ওঠার পেছনে স্থানীয়দেরও ভূমিকা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ করা গেলে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।
ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুরবস্থার প্রসঙ্গ টেনে আবদুস সালাম বলেন, ম্যানহোলে ময়লা ফেলার কারণেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। বর্ষার আগে ড্রেন পরিষ্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, পাকিস্তান আমলে কয়েক লাখ মানুষের জন্য গড়ে ওঠা ঢাকা শহরে এখন কয়েক কোটি মানুষের বসবাস। সেই তুলনায় অবকাঠামো ও নাগরিক সুবিধা বাড়েনি। ফলে যানজট, জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জনদুর্ভোগ বাড়ছে।
বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়েও কথা বলেন ডিএসসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাজার কার্যক্রম শেষ করতে হবে। একইসঙ্গে ব্যবসায়ীদের জন্য পাবলিক টয়লেটের ব্যবস্থাও করতে হবে, যা সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব।
এ সময় তিনি এলাকাভিত্তিক গণশুনানির পরিকল্পনার কথাও জানান। সেখানে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের জনগণের সামনে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি। রাস্তা খারাপ, ময়লা অপসারণে অনিয়ম কিংবা অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগেরও সমাধান করা হবে বলে আশ্বাস দেন।
ট্যাক্স ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের কথাও তুলে ধরে আবদুস সালাম বলেন, অনেকেই ভবন সম্প্রসারণ করলেও সঠিক ট্যাক্স দেন না। এসব অনিয়ম বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, পুরান ঢাকা তথা দক্ষিণাঞ্চলের নাগরিকদের ট্যাক্সের টাকায় রাজধানীর উত্তরাংশে উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন সেবা সংস্থা আলাদা আলাদা থাকায় সমন্বয়ের অভাব তৈরি হয়েছে। এজন্য একটি সমন্বিত “সিটি অথরিটি” গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
সমাজে মাদক বিস্তার রোধে সামাজিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, তরুণদের খেলাধুলা, প্রবীণদের বিনোদন ও শিক্ষার্থীদের জন্য লাইব্রেরির ব্যবস্থা থাকতে হবে। একইসঙ্গে রাজধানীর ওপর চাপ কমাতে দেশের অন্যান্য শহরেও উন্নয়ন বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
বিদেশিদের কাছে দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় যানজট কমানো জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এয়ারপোর্ট থেকে মতিঝিল যেতে যদি তিন ঘণ্টা লাগে, তাহলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়।”
মতবিনিময় সভায় মসজিদ, বাজার, পাবলিক টয়লেট ও সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে আব্দুস সালাম বলেন, “সিটি করপোরেশন ৫০ শতাংশ দায়িত্ব নেবে, জনগণকেও ৫০ শতাংশ দায়িত্ব নিতে হবে।”
এলাকাবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের সভায় অংশ নিয়ে নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন।
ভিওডি বাংলা/খতিব/এফএ







